মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুল্ক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। উভয় দেশ শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত এ থেকে আসা সব শিল্প পণ্য এবং বেশ কিছু কৃষি ও খাদ্য পণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাদ দেবে অথবা হ্রাস করবে। এতে পশুখাদ্য, বিভিন্ন শস্য, বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটের মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভারত এর টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক, রাবার, জৈব রাসায়নিক, গৃহসজ্জা সামগ্রী, হস্তশিল্প এবং যন্ত্রপাতির ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখবে। এই পণ্যগুলোতে শুল্ক হ্রাসের কোনো ব্যবস্থা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী চুক্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরা, বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশসহ বহু ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেবে। এই পদক্ষেপটি ভারত এর রপ্তানি শিল্পের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে।
বিশেষভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ভারত এ থেকে নির্দিষ্ট বিমান ও তার যন্ত্রাংশের আমদানি ক্ষেত্রে আলাদা শুল্ক ছাড় প্রদান করবে। এই সুবিধা উভয় দেশের এয়ারস্পেস সেক্টরের পারস্পরিক বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করবে।
বাণিজ্যকে জটিল করে তোলা অশুল্ক বাধা দূর করার জন্য দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারত এর দীর্ঘস্থায়ী নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ক্ষেত্রে, ভারত এ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য প্রযোজ্য কঠোর আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা বাতিল করবে। এর ফলে পূর্বে বিলম্ব এবং পরিমাণগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে সমস্যাগুলো দেখা দিত, সেগুলো দূর হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য অশুল্ক বাধাগুলো ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন পণ্যের ভারতীয় বাজারে প্রবেশ সহজ করবে এবং ভোক্তাদের পছন্দের পরিসর বাড়াবে।
ভারত এ আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার (৫০ হাজার কোটি ডলার) মূল্যের পণ্য ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পিত পণ্যের মধ্যে জ্বালানি, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য শিল্প সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডেটা সেন্টারের জন্য জিপিইউসহ উন্নত প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা। এই সহযোগিতা উভয় দেশের আইটি শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াবে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনায় ভারত এ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও শুল্ক কমানোর অনুরোধ বিবেচনা করবে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পণ্যের নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত এ যুক্তরাষ্ট্রের অথবা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ করবে। আলোচনার লক্ষ্য ছয় মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা।
এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত এর রপ্তানি শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, আমদানি খরচ কমবে এবং উভয় দেশের বাজারে পণ্যের প্রবাহ দ্রুত হবে। একই সঙ্গে, অশুল্ক বাধা হ্রাস এবং মানদণ্ডের সমন্বয় ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করবে।



