প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বিবিসি রেডিও ৪-এ জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন পিটার ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য ভাগ করে দেশের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এই মন্তব্যটি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরবর্তী সময়ে ম্যান্ডেলসন ব্যবসা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের ইমেইলগুলো থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে প্রকাশিত ইমেইল বিনিময় দেখায়, ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে দিন-প্রতি-সেকেন্ড আপডেট পাঠিয়েছিলেন। এই আপডেটগুলোতে আর্থিক বাজারের চলন, মুদ্রা মূল্যের ওঠানামা এবং সম্ভাব্য স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর পুলিশ ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত দুইটি বাড়ি অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানের ফলে কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, এবং ম্যান্ডেলসন বিবিসির মন্তব্যের জন্য অনুরোধের উত্তর দেননি।
ব্রাউন উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের যোগাযোগের ফলে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা ও আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তিনি বলেন, এই তথ্যের লিকের ফলে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং বাড়তে পারত এবং বড় আকারের বাণিজ্যিক ক্ষতি হতে পারত, যা বাস্তবে ঘটেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ব্রাউন নিজে এই প্রকাশে গভীর শক, দুঃখ, রাগ এবং বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ম্যান্ডেলসনের এই কাজ তাকে গভীরভাবে হতাশ ও বিচ্ছিন্ন করেছে।
ইমেইলগুলোতে ম্যান্ডেলসন সরকারী দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন দেখা যায়। তিনি বই রচনার পরিকল্পনা, সরকার শেষ হওয়ার পর চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং কোন ব্যাংকে কাজ করতে পারেন তা নিয়ে বিশদভাবে লিখেছেন।
ব্রাউন এই বিষয়গুলোকে ম্যান্ডেলসনের সহকর্মী ও দেশের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, সরকারী মন্ত্রীর দায়িত্বের সময়ে এমন ব্যক্তিগত স্বার্থের অনুসরণ করা নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।
ব্রাউন ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে, যাঁর নামও সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের ফটোগ্রাফে দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই তথ্যগুলো তদন্তের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকাশের ফলে লেবার পার্টি ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত চাপ বাড়তে পারে। প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর তদন্তের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আর্থিক স্বার্থের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে পারে। ভবিষ্যতে পার্টির অভ্যন্তরে নৈতিক মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গর্ডন ব্রাউনের মন্তব্য এবং এপস্টেইন ফাইলের ইমেইল প্রকাশের ফলে পিটার ম্যান্ডেলসনের কর্মের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কঠোর পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের আর্থিক নীতি ও সরকারি স্বচ্ছতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



