বিএনপি দল শীঘ্রই সরকার গঠন করলে, রংপুর বিভাগের সৈয়দপুরে অবস্থিত বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধায় রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাটি শনিবার দুপুরে নীলফামারী হাই স্কুলের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ভাষণে প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সৈয়দপুরে বর্তমানে যে এয়ারপোর্ট রয়েছে, সেটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার মাধ্যমে চীনের সহযোগিতায় নির্মিত নতুন হাসপাতালের ব্যবহার বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশ থেকে রোগী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী সহজে আসতে পারবে।
তারেক রহমানের মতে, আন্তর্জাতিক রূপান্তরের কাজটি পরিকল্পিতভাবে এবং ধীরে ধীরে সম্পন্ন হবে, যাতে বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও সেবা মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের সমগ্র জনগণের চাহিদা পূরণ হবে, বিশেষ করে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের বাসিন্দাদের জন্য।
বিএনপি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের লক্ষ্য হল এলাকার জলাশয় ও খালকে পুনরুজ্জীবিত করা, যাতে কৃষি ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং সবুজ শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তারেক রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন হয়, তবে তিস্তা প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।
বিকাশের অংশ হিসেবে তিনি নীলফামারী ও আশেপাশের অঞ্চলের জন্য মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই মেডিকেল কলেজটি পর্যায়ক্রমে গঠন করা হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, সৈয়দপুরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রেল কারখানা সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত এই এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য স্কুল, কলেজ, রোড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ইপিজেড (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক জোন) সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কলকারখানা ও উৎপাদন ইউনিট স্থাপিত হবে।
বিএনপি সরকারের এই সব পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি; তবে দলটি সাধারণত সরকার গঠনের পর নীতি ও প্রকল্পের বিষয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। বর্তমান সময়ে সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ থাকবে বলে অনুমান করা যায়।
সৈয়দপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রূপান্তর, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প, মেডিকেল কলেজ ও শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা একসাথে রংপুর বিভাগের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সূচি, তহবিলের উৎস ও পরিবেশগত প্রভাবের মূল্যায়ন এখনও স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে, এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এই ঘোষণার পর, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং নতুন সুযোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, যে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত তহবিল ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, শীঘ্রই সরকার গঠন হলে, সৈয়দপুরের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, তিস্তা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল কলেজ ও শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলা—এই সব পরিকল্পনা রংপুর বিভাগের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। তবে বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।



