সপ্তাহের শেষ দিনে পোকহারা রাঙ্গাসালায় অনুষ্ঠিত SAFF U-19 নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত এ দল ৪-০ গোলে বিজয় অর্জন করে। ম্যাচের শেষ সিগন্যাল পর্যন্ত ভারত এ ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখে।
ফাইনালের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক দলকে বিশাল গৌরবের শিরোপা জয়ের আশা করা হচ্ছিল। টুর্নামেন্টের পূর্ববর্তী রাউন্ডে তারা ভারত এ-কে ২-০ গোলে পরাজিত করে, তিনটি জয়, ১৮ গোল এবং কোনো গোল না খেয়ে শূন্য গোলের রেকর্ড নিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেছিল। তাই ম্যাচের আগে তারা হেভি ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রথমার্ধে ভারত এ দলই গেমের টোন নির্ধারণ করে। ৪২য় মিনিটে পিট্রিকা বারমানের সুনিপুণ পাসে জুলান নংগমাইথেম বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে, বামফ্ল্যাঙ্ক থেকে ক্রসের সঙ্গে শান্তভাবে শট মারেন এবং প্রথম গোলের মাধ্যমে অর্ধেকের আগে দলকে এগিয়ে নেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক দল অর্ধেকের পরেও সমানভাবে প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবেলা করতে পারেনি। ৬১তম মিনিটে ডিফেন্ডার প্রোতিমা মুন্ডা আলভা দেবিকে পেনাল্টি এলাকায় ফাঁসিয়ে দেয়, ফলে পেনাল্টি কিকের সুযোগ তৈরি হয়। এলিজাবেড লাক্রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শট মারেন এবং স্কোরকে ২-০ করে তোলেন।
প্রায় সাত মিনিট পরই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোলকিপার ইয়ারজান বেগুম চাপের মধ্যে পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হন। পিয়ারল ফার্নান্দেজ বলটি সংগ্রহ করে দ্রুত শট দেন এবং তৃতীয় গোলের মাধ্যমে ম্যাচের প্রবাহকে সম্পূর্ণভাবে ভারত এ-র পক্ষে মোড় নেয়।
গেমের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দল স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারে না। প্রতিরক্ষা ভেঙে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও সৃজনশীলতার অভাব দেখা যায়। ভারত এ দলের সংগঠিত রক্ষণে তারা বেশিরভাগ সময়ই ব্যাকপাসে আটকে থাকে।
গেমের ৮৩য় মিনিটে অনিভিতা রাঘুরামন শেষ গোলটি গড়ে তোলেন। তার শটটি সোজা নেটের মধ্যে গিয়ে স্কোরকে ৪-০ করে শেষ করে। এই গোলটি ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং ভারত এ দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দেয়।
ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখায়, ভারত এ দল পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মকভাবে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তারা তিনটি ভিন্ন খেলোয়াড়ের মাধ্যমে গোল করেছে, যা দলীয় সমন্বয় ও কৌশলের স্পষ্ট প্রমাণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক দলকে রক্ষণে ত্রুটি, বিশেষ করে গোলকিপার ও ডিফেন্ডারদের ভুলের কারণে বড় ক্ষতি হয়েছে।
ম্যাচের পর কোচ ও খেলোয়াড়দের মন্তব্যে দেখা যায়, ভারত এ দল তাদের প্রস্তুতি ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক দল পরাজয়ের পর বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে রক্ষণে আরও দৃঢ়তা ও আক্রমণে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।
এই বিজয় ভারত এ-কে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিততে সাহায্য করে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু হবে, তবে তা সম্পর্কে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি।
সারসংক্ষেপে, পোকহারা রাঙ্গাসালায় অনুষ্ঠিত ফাইনালটি ভারত এ দলের জন্য একটি সম্পূর্ণ পারফরম্যান্সের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তারা প্রতিপক্ষের প্রতিটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে চারটি গোলের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক দলকে এই পরাজয় থেকে শিখে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
এই ম্যাচের ফলাফল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে, এবং উভয় দলের ভক্তদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফলই স্পষ্ট: ভারত এ দল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরে গেছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক দলকে পুনর্গঠন ও উন্নতির পথে অগ্রসর হতে হবে।



