বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শুক্রবার রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, জনগণের স্বীকৃতি পেলে শেখ হাসিনার সন্তানরাও দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, শেষ সিদ্ধান্ত ভোটারই নেবে, আর যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তবে কোনো বাধা থাকবে না।
তারেক রহমানের এই বক্তব্যের পটভূমি হল, শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও বর্তমানে দেশে না থাকার পরিস্থিতি রয়েছে। এ সময়ে তার পরিবারকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু মামলা চলমান, যা এখনও বিচারাধীন।
সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার জনগণের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। “যদি মানুষ গ্রহণ করে, যদি স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারো রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার অধিকার আছে,” তিনি বলেন, এবং এই নীতিকে সকল রাজনৈতিক প্রার্থী ও পার্টির জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন।
একই আলোচনায় তিনি নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, বিরোধী দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করলে সংসদে বিরোধী ভূমিকা অস্পষ্ট হয়ে যায়। “আমি যদি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যা তার পার্টির স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
নির্বাচনী সম্ভাবনা সম্পর্কে তারেক রহমান আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন অর্জন করতে সক্ষম হবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, পার্টি ৩০০ আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দাখিল করেছে, অবশিষ্ট আসনে তাদের জোটসঙ্গীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জোর দেন, যদি সরকারে ফিরে আসে, তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই প্রধান অগ্রাধিকার হবে। “আমরা যদি শাসনে থাকি, তবে আমাদের দায়িত্ব হবে তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত করা,” তিনি বলেন।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। তিনি বলেন, “যে প্রস্তাব আমাদের দেশের জন্য উপকারী হবে, সেটিই আমরা গ্রহণ করব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের নয়।” এই বক্তব্য দেশের স্বতন্ত্র নীতি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো এখনও বিচারাধীন। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ায় প্রধান দলগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপি তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও তার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিকতা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি জনগণ শেখ হাসিনার সন্তানদের স্বাগত জানায়, তবে তা পার্টির অভ্যন্তরে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। তবে তা বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে সব দিক থেকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা হবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, জনগণের অনুমোদনই রাজনীতিতে প্রবেশের মূল শর্ত, এবং বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন অর্জনে আত্মবিশ্বাসী। পাশাপাশি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুব কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



