সাত ফেব্রুয়ারি শনিবার, থাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান উপস্থিত হয়ে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের শর্তে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি থাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বিমানবন্দর, চা ও শিল্প কারখানা, এবং শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তিনি শীতকালে গরম কাপড় নিয়ে দরিদ্রদের সাহায্য করতে গিয়েছিলেন এবং এখন ভোটারদের অধিকার ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তিনি নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ, সার ও কীটনাশক পেতে সক্ষম হবেন বলে তিনি জানান।
ধানের শীষের সময়ে তিনি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন এবং নিবন্ধিত এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ সরকার পরিশোধ করবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে কল কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও তিনি তুলে ধরেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে, পঞ্চগড় ও থাকুরগাঁওয়ে চা ও শিল্প কারখানা চালু করার পাশাপাশি ক্যাডেট কলেজের প্রতিষ্ঠা, হিমাগার নির্মাণ এবং আইটি পার্ক বা হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা তিনি উপস্থাপন করেন। থাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে, তিনি বলছেন এক যুগের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে হেলথ কেয়ারার নিয়োগের মাধ্যমে সেবা উন্নত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই প্রতিশ্রুতি থাকুরগাঁওয়ের ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের শর্তে এই সব প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন, যা স্থানীয় ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাগুলোকে অতি উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা উল্লেখ করেছে, বিমানবন্দর ও বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন হবে না।
বিএনপি নেতারা বলছেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো থাকুরগাঁওয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারবে।
প্রতিপক্ষের মন্তব্যের পরেও, তারেক রহমানের দল বলছে, ভোটের দিন নাগাদ এই প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে এবং জনগণকে ফলাফল দেখানো হবে।
থাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনী পরিবেশে এই ঘোষণাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি বিএনপি এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নে সক্ষম হয়, তবে তা স্থানীয় ভোটের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
অবশেষে, থাকুরগাঁওয়ের ভোটারদের জন্য এই প্রতিশ্রুতিগুলো একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে, যেখানে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলটির সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। ভোটের ফলাফল কীভাবে এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



