25.4 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহবিগঞ্জে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান ধর্মভিত্তিক বিভাজন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানালেন

হবিগঞ্জে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান ধর্মভিত্তিক বিভাজন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানালেন

হবিগঞ্জের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আজ শনিবার দুপুরে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান এক বৃহৎ জনসভা পরিচালনা করেন। উপস্থিতি প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ভোটার, স্থানীয় নেতা ও যুবক-যুবতী নিয়ে গঠিত ছিল। তিনি ধর্মের ভিত্তিতে দেশের বিভাজনকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে দেশের ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানান। সভার সভাপতিত্ব জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান করেন।

শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বললেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে দেব না; ধর্মীয় ভিত্তিতে অতিরিক্ত ইসলামও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ধার্মিক ব্যক্তি অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না; এ কথা দেশের চার ধর্মের মানুষের সমন্বিত ইতিহাসই প্রমাণ করে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা শতাব্দী ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে, এবং এই সহাবস্থানের ঐতিহ্যই জাতির শক্তি। তাই ধর্মীয় উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি বংশানুক্রমিক শাসনের ধারাকে বদলানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ‘যদি কোনো শ্রমিকের সন্তান মেধাবী হয়, তবে তার ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী করা উচিত,’ তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে তিনি ঐতিহ্যবাহী রাজনীতির পরিবর্তে গুণগত নেতৃত্বের মডেল প্রস্তাব করেন, যেখানে শিক্ষা ও দক্ষতা মূল মানদণ্ড হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিভা উন্মোচন করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

শফিকুর রহমান বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবহেলা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভিয়েতনাম স্বাধীনতার পর দ্রুত উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠেছে, আর বাংলাদেশের উন্নয়ন এখনো থেমে আছে। দেশের নিরাপত্তা দুর্বল, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়ছে, এবং ‘চাঁদাবাজ’দের ভয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। দুর্নীতি সমাজের ভিত্তি নষ্ট করেছে, তিনি যুক্তি দেন। তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে অবহেলা চলেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।

জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী মঞ্চে অঙ্গীকার করে বলেছে, ক্ষমতায় আসলে ‘চাঁদাবাজ’দের হাত বন্ধ করবে। ব্যবসায়িক পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, রাতের ঘুম হারাতে হবে না। ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি আর না ফেলতে হবে, এবং দুর্নীতির জন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি বিশেষভাবে একটি স্বতন্ত্র অ্যান্টি-করাপশন কমিশন গঠন, সরকারি চুক্তি স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দুর্নীতির শিকারদের জন্য দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় জামায়াত-এ-ইসলামি কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের মন্তব্যও শোনা যায়। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিতও উপস্থিত থেকে পার্টির নীতি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। উভয়েই শফিকুর রাহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন এবং যুবকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। যুবক-যুবতীরা সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন করে এবং পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

এই জনসভা দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি নতুন নেতৃত্বের মডেল উপস্থাপন করছে। ধর্মভিত্তিক বিভাজন না করে গুণগত নেতৃত্বের দাবি ভোটারদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। পার্টি যদি নির্বাচনে সফল হয়, তবে শফিকুর রাহমানের উল্লেখিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments