সাউথ লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেস ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে একাধিক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৫ সালে এফএ কাপ জয় করার পর উল্লাসের পর্দা উড়ে গিয়ে দলটি এফএ কাপের ধারক অবস্থায়ই ম্যাকলসফিল্ডের হাতে বাদ পড়ে। একই সময়ে ক্যাপ্টেন মার্ক গুইহি ম্যানচেস্টার সিটিতে বিক্রি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ম্যানেজার অলিভার গ্লাসনার সিজনের শেষে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন।
এফএ কাপের শকিং বাদটি ক্রিস্টাল প্যালেসের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। হোল্ডার হিসেবে প্রবেশ করা দলটি অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাকলসফিল্ডের হাতে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম বড় আপসেট হিসেবে চিহ্নিত। ম্যাচের পর দলটি মিডিয়া এবং সমর্থকদের কাছ থেকে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ে, বিশেষ করে কেন এমন শক্তিশালী দলকে হঠাৎ করে হারানো হয়েছে।
ক্যাপ্টেন গুইহির বিক্রয় ম্যানচেস্টার সিটিতে সম্পন্ন হওয়ার খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্লাসনারের প্রস্থানের পরিকল্পনা নিশ্চিত হয়। গ্লাসনার সিজনের শেষ পর্যন্ত দলটি পরিচালনা করবেন, তবে তার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি ক্লাব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এই দুইটি বড় পরিবর্তনই ক্রিস্টাল প্যালেসের শীতল শুরুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
স্থানান্তর উইন্ডোতে দলটি বেশ কয়েকটি জটিল লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে। জাঁ-ফিলিপ ম্যাটেটার মিলানে যাওয়ার চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেঙে যায়, আর এভারটনের উইংার ডুইট মেকনিলের সঙ্গে চুক্তি প্রত্যাহার করা হয়। মেকনিলের এজেন্টের মন্তব্যে দলকে খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ‘খেলাধুলা’ করার অভিযোগ তোলা হয়, যা সমালোচনার জন্ম দেয়।
একই সময়ে ক্রিস্টাল প্যালেস রেকর্ড ভাঙা ট্রান্সফার সম্পন্ন করে। উলভস থেকে জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনকে সর্বোচ্চ £৪৮ মিলিয়ন পর্যন্ত ফি দিয়ে অর্জন করা হয়, যা মাত্র এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ড ভাঙা চুক্তি। পূর্বে টটেনহ্যাম থেকে ব্রেনান জনসনকে £৩৫ মিলিয়নে সাইন করা হয়েছিল, যা ক্লাবের ব্যয়বহুল নীতি নির্দেশ করে।
লারসেনের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ তিনি এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র এক গোলই করেনি। একই সঙ্গে, টটেনহ্যাম থেকে আসা জনসনও এখনো গোলের জায়গা খুঁজে পাননি, যদিও তিনি দলকে বড় পরিমাণে অর্থ দিয়ে অর্জন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দলকে আক্রমণাত্মক বিকল্পের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
গ্লাসনার, যদিও মেকনিলের সঙ্গে চুক্তি না করলেও, ক্রিস্টাল প্যালেসের আক্রমণাত্মক বিকল্পে সমৃদ্ধ বলে দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে গুইহি ছাড়া দলের পেছনে বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে, এবং আসন্ন রবিবারের ব্রাইটনের সঙ্গে ম্যাচে এই বিকল্পগুলো ব্যবহার করা হবে। দলটি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত।
অ্যাস্টন ভিলার তরুণ ফরোয়ার্ড ইভান গেসস্যান্ডও দলকে যোগ দিয়েছেন। তিনি ঋণাত্মকভাবে সাইন করে আসছেন এবং সিজনের শেষে £২৬ মিলিয়নে স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গেসস্যান্ডের উপস্থিতি আক্রমণাত্মক বিকল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্লাবের চেয়ারম্যান স্টিভ পারিশ এই সব পরিবর্তনকে নিয়ে মন্তব্য করে বলেন যে ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দলটি এখনো শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত এবং সমর্থকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।



