গোলশান‑এ বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে আজ অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিং‑এ বিএনপি ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমানের তারেক রহমানকে নীতি আলোচনার জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানাতে পার্টির উদ্দেশ্যকে নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যমে মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল বলে সমালোচনা করেন।
মাহদি আমিনের মতে, শফিকুর রহমানের পোস্টে তারেক রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করা এবং দু-তিন দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পূর্বে তা প্রকাশ করা একটি “ক্যাচি” পদক্ষেপ, যা দ্রুত ভাইরাল হতে পারে এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের আগামী দুই দিনের সময়সূচি ইতিমধ্যে ব্যস্ত, তাই এই আমন্ত্রণের সময় নির্বাচন‑সামনের মুহূর্তে প্রকাশিত হওয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি ইতিমধ্যে এক বছর ধরে তার নীতি প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং জনগণকে বিভিন্ন মাধ্যমে তা জানানো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে, মাহদি আমিন প্রশ্ন তোলেন কেন এখন, ভোটের ঠিক আগে, নীতি‑আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যখন ইতিমধ্যে বিস্তৃত নীতি‑বিবরণী জনসাধারণের সামনে রয়েছে।
মাহদি আমিন আরও জানান, তিনি গত ১৮ মাসে জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর কোনো নীতি‑সংক্রান্ত পোস্ট লক্ষ্য করেননি, এবং এমনকি গত ১৬ বছরেও এমন কোনো পোস্টের রেকর্ড নেই। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি যুক্তি দেন যে, শফিকুর রহমানের এই আমন্ত্রণের পেছনে নীতি‑বিষয়ক কোনো বাস্তব আলোচনা নয়, বরং মিডিয়া‑কেন্দ্রিক প্রচারমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে।
বিএনপি নীতি‑প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদী পরামর্শের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জোর দেন। প্রতিটি নীতি তার নিজস্ব পটভূমি ও পরামর্শের ধাপের মাধ্যমে গঠিত হয়, এবং এ পর্যন্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদী জনসাধারণের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের নীতি‑আলোচনা প্রকাশিত হওয়া অস্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাহদি আমিনের মতে, নির্বাচনের পূর্বে সব দলই তাদের নীতি‑প্রস্তাবনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে জনগণের মতামত সংগ্রহ করা উচিত। এভাবে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।
প্রেসব্রিফিং‑এ তিনি নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি লক্ষ করেন যে, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী স্ট্যাম্প প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে, যা ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য হতে পারে।
এছাড়া, ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুখ উন্মুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক, এমন আইনগত বিধানকে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি বড় পরিমাণে বুর্কা ও নিকাব প্রস্তুত করার রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যা ভুয়া ভোটের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
মাহদি আমিনের মতে, বুর্কা ও নিকাবের মাধ্যমে ভোটারদের পরিচয় গোপন করে ভোটদান করা আইন লঙ্ঘন এবং ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে। তিনি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি এই মুহূর্তে সকল রাজনৈতিক দলকে নীতি‑আলোচনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য আইনগত বিধান মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছে। প্রেসব্রিফিং‑এর শেষে, মাহদি আমিন উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নীতি‑বিষয়ক স্পষ্টতা এবং ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের কঠোরতা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।



