বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার বিকেলে থাকুরগাঁও জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও কৃষকদের ঋণমুক্তি সংক্রান্ত দুইটি প্রধান পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারী নাগরিকদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা ধীরে ধীরে তাদের আর্থিক স্বাধীনতা বাড়াবে, এবং নির্বাচনের পর সব কৃষকের জন্য সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমানের বক্তব্যের পর, তিনি থাকুরগাঁওতে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, শীতকালে তিনি প্রায়ই এই অঞ্চলে গিয়ে গরম কাপড় বিতরণ করতেন, তবে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে বহু বছর এখানে আসতে পারেননি। এখন তিনি দেশের গঠনমূলক কাজের জন্য আবার ফিরে এসেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে চান।
নারী উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য অবৈতনিক ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ব্যবস্থা করে ছিলেন, তবে এখনও নারীদের সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করা বাকি। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে নারীরা সরকারি সুবিধা, ঋণ ও সঞ্চয় সুবিধা সহজে পেতে সক্ষম হবেন, ফলে তাদের জীবনযাত্রা ও কাজের পরিবেশ নিরাপদ হবে।
কৃষকদের জন্যও সমানভাবে পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষককে একটি বিশেষ কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ, সরকারি সার ও অন্যান্য কৃষি সহায়তা পেতে পারবে। যদি নির্বাচনের পর ধানের শীষ জয়যুক্ত হয়, তবে সব কৃষকের দশ হাজার টাকার ঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া, সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ঋণও সরকারী তহবিল থেকে শোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে পুনরায় স্বাবলম্বী হতে পারে।
থাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে তারেক রহমান অতিরিক্ত কয়েকটি প্রকল্পের কথা বলেন। তিনি জানান, পঞ্চগড়ের বন্ধ চিনি কারখানা পুনরায় চালু করা হবে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে। কৃষি পণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষকরা তাদের ফসলের ক্ষতি কমাতে পারেন। তদুপরি, এলাকার তরুণদের উচ্চশিক্ষা সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, তিনি স্থানীয় শিল্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন, যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। সমাবেশে উপস্থিত জনগণ এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে স্বাগত জানিয়ে, সরকারের কাছ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
সমাবেশের শেষে, তারেক রহমানের দল ও সমর্থকরা তার ঘোষণার পক্ষে তালি ও নাড়ি দিয়ে সমর্থন প্রকাশ করে। সমাবেশে উপস্থিত কোনো সরকারী প্রতিনিধি বা আওয়ামী লীগ নেতার মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, এবং সরকারী দিক থেকে এই প্রস্তাবগুলোর ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘোষণাগুলো বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নারী ও কৃষক ভোটার গোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনের জন্য বিশেষ নীতি প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।



