ইউএস পেন্টাগন ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা বন্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে উত্থাপিত ‘ওক’ বা অতিরিক্ত উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। বিচ্ছেদ ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে, তবে বর্তমানে হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত সামরিক কর্মকর্তারা তাদের কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
ইউএস পেন্টাগন বহু বছর ধরে হার্ভার্ডে সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে। উচ্চমানের শিক্ষার মাধ্যমে সৈন্যদের নেতৃত্ব ও কৌশলগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাম্পাসে ‘ওক’ সংস্কৃতি বিস্তারের অভিযোগে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতে, পেন্টাগন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হার্ভার্ডে পাঠিয়ে তাদের সামরিক জ্ঞান ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আশা করতেন যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সৈন্যদের অবদানের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেবে, কিন্তু বাস্তবে অনেক কর্মকর্তা ক্যাম্পাসের উদারপন্থী পরিবেশে প্রভাবিত হয়ে ফিরে আসছে।
হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, কিছু কর্মকর্তা বিশ্বায়ন ও চরম মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে তাদের যুদ্ধক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পেন্টাগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে হার্ভার্ডের সঙ্গে কোনো নতুন শিক্ষামূলক চুক্তি করা হবে না।
বিচ্ছেদ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইউএস পেন্টাগন জানিয়েছে যে, বর্তমান ভর্তি হওয়া সামরিক ছাত্রদের কোর্স শেষ করার অনুমতি থাকবে, তবে নতুন ভর্তি বন্ধ থাকবে। সম্পর্কের বিচ্ছেদ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
ইউএস পেন্টাগন এছাড়াও জানিয়েছে যে, হার্ভার্ডের পরিবর্তে আইভি লিগের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। লক্ষ্য হল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পেন্টাগনের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করতে পারে তা নির্ধারণ করা।
পিট হেগসেথ নিজেও আইভি লিগের প্রাক্তন ছাত্র; তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে পূর্বে তিনি হার্ভার্ডের বামপন্থী নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ডিগ্রি ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তার বর্তমান নীতির পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা হার্ভার্ডসহ অন্যান্য কলেজকে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদে ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এই অভিযোগগুলো ইউএস পেন্টাগনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে অনুমান করা হয়।
বিচ্ছেদ ঘোষণার পর, হার্ভার্ডের কিছু সামরিক ছাত্র ও শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান ও ক্যারিয়ার সুযোগে কী প্রভাব পড়বে। ইউএস পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে ভর্তি হওয়া কর্মকর্তারা তাদের কোর্স সম্পন্ন করতে পারবেন এবং নতুন ভর্তি বন্ধ থাকবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি সামরিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কোনো কোর্সে ভর্তি হতে চান, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ইউএস পেন্টাগন সম্পর্ক ও শিক্ষার মান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করুন। এছাড়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পেন্টাগনের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামগুলোও তুলনা করে দেখলে আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আরও সুনির্দিষ্ট হতে পারে।



