যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সঙ্গে মার্চের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেছেন, তবে মূল ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
আলোচনায় নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনে গণভোটের আহ্বান জানানো হবে। একই সময়ে ভোটাররা জাতীয় নির্বাচনের জন্যও ভোট দেবেন, যা শান্তি চুক্তির বৈধতা ও দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দুটোই নিশ্চিত করবে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার নেতৃত্বে গঠিত মধ্যস্থতাকারী দল, আবু ধাবি ও মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে ইউক্রেনীয় নেতাদের দ্রুত নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত নির্বাচন হলে শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বজায় রাখা সহজ হবে।
মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা উল্লেখ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ বাড়াবে। ফলে ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার জন্য তার সময় ও রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে, যা চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনার শেষ পর্যায়ে, তিনশো অধিক যুদ্ধবন্দি মুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয় এবং শীঘ্রই পুনরায় আলোচনায় ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মে মাসে ইউক্রেনে নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তবে একাধিক বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত সময়সীমাকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
একজন সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে নির্বাচন সম্ভবত ছয় মাসের আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে, তবুও তা মে মাসের পরেই হবে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দেয় যে, সময়সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নির্বাচনের আইনি কাঠামো পরিবর্তন করা প্রয়োজন, কারণ ইউক্রেনে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হওয়ায় বর্তমান নির্বাচনী আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনগত পরিবর্তন ছাড়া গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথে আয়োজন করা কঠিন হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মূল বিষয়গুলো, যেমন ক্রিমিয়া ও ডোনবাসের নিয়ন্ত্রণ, এখনও সমঝোতার স্তরে পৌঁছায়নি। এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে কোনো চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর হবে না, ফলে মার্চের মধ্যে চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য ঝুঁকির মুখে।
মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চক্রের প্রভাবকে বিবেচনা করে, শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দ্রুত করতে চায়। তবে তারা স্বীকার করেছেন, সময়ের চাপ ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তন হলে চুক্তির বাস্তবায়ন ধীর হতে পারে।
ইউক্রেনের নির্বাচন কমিশন বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, শরণার্থী প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তি ও দ্রুত নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে ভূখণ্ডগত বিষয়ের সমাধান, আইনি পরিবর্তন এবং বাস্তবিক সময়সীমা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ফলাফল এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আলোচনার দিকই ভবিষ্যতে শান্তি প্রক্রিয়ার মূল নির্ধারক হবে।



