বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনি শনিবার থাকুরগাঁও জেলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে দেশের নতুন সরকার গঠনের পর থাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এয়ারপোর্টের কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেবা শুরু করা হবে।
তারা বলেন, পার্টির সহ-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সম্প্রতি জানিয়েছেন যে থাকুরগাঁও বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অগ্রসর হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত করে জানান, সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে এয়ারপোর্টের উদ্বোধনকে ত্বরান্বিত করা হবে।
সমাবেশে তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২০২৪ সালে আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নড়ে গেছি। এখন আমাদের দায়িত্ব হল দেশের গঠন ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, থাকুরগাঁও বিমানবন্দর দেশের উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।
ধর্মীয় সংহতির বিষয়েও তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ঐক্য বজায় থাকবে। তিনি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সকল নাগরিকের সমান সুযোগের কথা উল্লেখ করে, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে “প্রত্যাশিত বাংলাদেশ” গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি এমন বাংলাদেশ যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বচ্ছন্দে চালাতে পারে, মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং শিশুরা মানসম্পন্ন শিক্ষা পায়।” থাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে এই দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে তুলে ধরে, এয়ারপোর্টের কার্যকরী হওয়া দেশের উত্তরাঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সমাবেশের সমাপ্তিতে তিনি উপস্থিত সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের এই প্রতিশ্রুতি, যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে থাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



