কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা‑মিরপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন গনসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পথসভায় রাগিব উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষা ও গৌরব রক্ষায় কোনো আপোষ করা যাবে না এবং যদি ভোটারগণ তার সঙ্গে যুক্ত হন তবে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মতো সমস্যাগুলো শেষ হবে। তিনি ১২ তারিখের আসন্ন নির্বাচনে “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান, যা তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রাগিবের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ গভীর সংকটে রয়েছে; মাদকদ্রব্যের বিস্তার তরুণ সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে, চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের জীবনে স্থায়ী ভয় সৃষ্টি করছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি এসব সমস্যার সমাধানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৎ নেতৃত্বের অধীনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিএনপি তার প্রার্থীকে “ধানের শীষ” প্রতীকে মনোনীত করেছে, যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের যৌথ ইচ্ছার প্রতীক। রাগিব এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতীক ভোটারদের জন্য পরিবর্তনের সংকেত বহন করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য হবে।
ভেড়ামারা উপজেলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্য বিএনপি নেতারাও অংশ নেন। বুলবুল আহমেদ বুলু সভাপতি, শিহাবুল ইসলাম সঞ্চালক, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে সমাবেশটি পরিচালিত হয়। উপস্থিতদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান জানবার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট বুলবুল আবু সাঈদ শামীম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইন্দোনেশিয়া সিটু, বাহাদুরপুর ইউপি বিএনপি সভাপতি বকুল হোসেন, সম্পাদক আসলাম উদ্দিন এবং বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান জামাল অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিতদের কাছ থেকে রাগিবের নীতি ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং সমাজের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তারা ভোটের মাধ্যমে এই পরিবর্তনকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রাগিবের বক্তব্যে উল্লেখিত সমস্যাগুলোর সমাধানে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকরী ভূমিকা ও স্বচ্ছতা দাবি করেন। তিনি বলছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, তিনি যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা ও নারী সুরক্ষার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেন।
এই সমাবেশে বিএনপি নেতারা রাগিবের নীতি সমর্থনে একমত হন এবং ভোটারগণকে আহ্বান জানান, “ধনশীষ” প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হোন। তারা জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে এবং সঠিক নেতৃত্বের নির্বাচনই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
অবশ্যই, নির্বাচনের আগে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও তাদের প্রচারসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই প্রতিবেদনে অন্য দলের মন্তব্য উল্লেখ করা হয়নি, তবে সাধারণত নির্বাচনী সময়ে সব দলই নিজেদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করে থাকে।
রাগিবের শূন্য সহনশীলতা নীতি ও “ধানের শীষ” প্রতীকের ব্যবহার ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। তিনি আশাবাদী যে, জনগণের সমর্থন পেলে এই নীতি বাস্তবায়ন করে সমাজের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।
ভেড়ামারা উপজেলায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের পর রাগিবের প্রচার দল আরও অন্যান্য গ্রাম ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।



