26.9 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমানের নিউফিল্ড সমাবেশে বিভাজনবিরোধী ও ন্যায়বিচার প্রতিশ্রুতি

শফিকুর রহমানের নিউফিল্ড সমাবেশে বিভাজনবিরোধী ও ন্যায়বিচার প্রতিশ্রুতি

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলায় হবিগঞ্জের নিউফিল্ড মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। সমাবেশে তিনি ক্ষমতার পর আইনকে সমানভাবে প্রয়োগের কথা জোর দিয়ে বলেন, বিচার টাকার কাছে বিক্রি হবে না এবং সকল নাগরিক ন্যায়সঙ্গত বিচার পাবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশকে আর বিভাজন করা যাবে না” এবং এই নীতিকে তার দলের মূল লক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে ভোটের মূল মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যারা সন্ত্রাসীদের বিরোধে দাঁড়াবে, তারাই ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেবে”। এভাবে তিনি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে ভোটারদের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেন।

নির্বাচিত হয়ে যদি কেউ চরিত্রহীন রাজনীতি চালায়, তা তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, “আমরা যদি নির্বাচিত হই, তবে প্রতিনিধিদের এবং তাদের পরিবারের আর্থিক হিসাব দিতে বাধ্য করা হবে”। এ ধারা অনুসারে তিনি পারদর্শী ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রাজনীতিকে পেশা হিসেবে না দেখে, জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি উপস্থাপন করেন। শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব” এবং যারা এই দায়িত্বকে স্বার্থপরভাবে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করা হবে”।

শফিকুর রহমান চা শিল্পের আধুনিকীকরণ এবং শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “চা বাগানের শিল্পকে আধুনিক করা হবে এবং চা শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে”। এভাবে তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে চান।

গ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার কথা বলেন। শফিকুর রহমানের মতে, “ক্ষমতায় গেলে গ্রামকে কৃষি ভিত্তিক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে”। এই নীতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অসৎ নেতৃত্বের কারণে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলায়নি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি সমালোচনা করেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করা যাবে না” এবং সকল ধরনের বিভাজনকে ঘৃণা করেন। এভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।

শফিকুর রহমানের মতে, “হ্যা” ভোট জয়ী হলে পুরনো বস্তাপচা রাজনীতির অবসান ঘটবে। তিনি এই ফলাফলকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন। সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তার এই প্রতিশ্রুতি শোনার পর উৎসাহ প্রকাশ করেন।

হবিগঞ্জের পাশাপাশি শফিকুর রহমান সিলেট বিভাগের আরও কয়েকটি স্থানে নির্বাচনী জনসভা করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সিলেটের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের নীতি ও পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেব”। এভাবে তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলে তার দলের উপস্থিতি দৃঢ় করতে চান।

শফিকুর রহমানের সমাবেশে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা তার বক্তৃতা শোনার পর তালি ও উল্লাসে মেতে উঠেন। তিনি সমাবেশের শেষে উপস্থিতদের সঙ্গে হাত মেলিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সমর্থনের আহ্বান জানান। তার এই প্রচারণা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments