বাংলাদেশ সরকার ৪৪তম বিসিএস গেজেট প্রকাশের পর, চূড়ান্ত নিয়োগে ১৮৬ প্রার্থী বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গেজেটটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশ করেছে। বাদ পড়া প্রার্থীরা এখন আর নিয়োগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাদের জন্য আর কোনো পদোন্নতি বা বেতনবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে না।
গেজেটে মোট ১,৬৭৬ জন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও, শেষ পর্যায়ে ১৮৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের সাত মাস পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সংখ্যা নিম্নরূপ: প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৪৮ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন, কর ক্যাডারে ১১ জন এবং নিরীক্ষা‑হিসাব ক্যাডারে ২৯ জন অন্তর্ভুক্ত। বাকি ক্যাডারেও প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন, তবে মোট সংখ্যা গেজেটে উল্লেখিত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্তদের অফিসে যোগদান করতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হলে প্রার্থীর অনুপস্থিতি স্বেচ্ছা হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।
গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় প্রার্থীদেরকে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আর কোনো আপিলের সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
গত বছরের ৩০ জুন প্রথম দফায়, ৬ নভেম্বর ২০২৫-এ দ্বিতীয়বারের মতো ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর তৃতীয় দফায় ১১ নভেম্বর ২০২৫-এ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রথম দফায় ১,৬৯০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল, দ্বিতীয় দফায় ১,৬৮১ জন এবং তৃতীয় দফায় ১,৬৭৬ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৯ জন এবং তৃতীয় দফায় ৫ জন বাদ পড়েন।
প্রতিটি দফার সুপারিশ পিএসসি দ্বারা পর্যালোচনা করে সরকারকে পাঠায়, এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত সাত মাস সময় লাগে। এই সময়ে প্রার্থীদের পারফরম্যান্স, শুদ্ধতা ও শারীরিক মানদণ্ড যাচাই করা হয়।
১৮৬ জন বাদপ্রাপ্ত প্রার্থীর জন্য এখন কোনো চাকরির সুযোগ থাকবে না এবং তারা আর সরকারি সেবার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না। তাদেরকে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে অফিসে উপস্থিত হয়ে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি কর্মে যোগদান করবেন। শপথের পরই তাদের পদবী, বেতন ও সুবিধা কার্যকর হবে।
এই গেজেটের মাধ্যমে প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য ক্যাডারে নতুন কর্মী প্রবেশের মাধ্যমে সেবার গুণগত মান উন্নত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে বাদপ্রাপ্তদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছু ক্যাডারে কর্মী ঘাটতি অব্যাহত থাকতে পারে।
গেজেট প্রকাশের আইনি ভিত্তি বাংলাদেশ সরকারের সরকারি প্রকাশনা নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত, এবং গেজেটের তথ্যই চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিটি প্রার্থীকে গেজেটের শর্তাবলী মেনে চলা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যোগদান করা অপরিহার্য, নতুবা নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
সারসংক্ষেপে, ৪৪তম বিসিএস গেজেটের মাধ্যমে ১,৬৭৬ জনকে চূড়ান্ত



