বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার দুপুরে থাকুরগাঁও, রাঙ্গামাটি জেলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি নির্বাচনী সভা পরিচালনা করেন। ১১টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে তিনি উপস্থিত হয়ে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আসন্ন নির্বাচনের কৌশল সম্পর্কে কথা বলেন।
বিএনপির নেতা ২২ বছর পর থাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসা এই সভা, স্থানীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল দশটায়ই মাঠে ইতিমধ্যে বেশিরভাগ স্থান দখল করে থাকে, যেখানে পার্টির কর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়েছেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, থাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। এই চারটি জেলা, যা বর্তমানে কৃষি ভিত্তিক, সেখানে শিল্পায়ন ঘটিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, তিনি আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভোট সংগ্রহের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি রূপকভাবে বলেন, ধানের শীষের মতো সমৃদ্ধি ও ভোটের ফলাফল একসাথে অর্জন করা দরকার, যাতে পার্টি নির্বাচনে জয়ী হতে পারে। এই বক্তব্যে তিনি পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে কৃষি ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের এই ঘোষণার পর, স্থানীয় সমর্থকরা তালি ও উল্লাসে তার কথা স্বাগত জানায়। উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্টির কর্মীরা মঞ্চের পাশে সজ্জিত ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে সমর্থন প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, এই ধরনের নির্বাচনী সভা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে থাকুরগাঁওয়ের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে, যা ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপিরের এই পরিকল্পনা, যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে রাঙ্গামাটির এই চারটি জেলার শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ কর্মশক্তি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে। তবে এ ধরনের বড় প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়, পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে, তারেক রহমানের এই সভা পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে পার্টির নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরা জরুরি, যাতে ভোটাররা পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারে এবং সমর্থন জানাতে পারে।
এই সভা শেষ হওয়ার পর, তারেক রহমান থাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। তিনি স্থানীয় সমস্যাগুলি, যেমন সড়ক অবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান, এবং সেগুলোর সমাধানে পার্টির পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
বিএনপিরের এই উদ্যোগের ফলে, থাকুরগাঁও ও পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে, পার্টির এই ঘোষণার ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোরও তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা বাড়ে।
সারসংক্ষেপে, শনিবারের এই জনসভা থাকুরগাঁওতে বিএনপির রাজনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় দৃঢ় করেছে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই ধরনের সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে পার্টি ভোটারদের সমর্থন অর্জন করতে চায়, একই সঙ্গে শিল্প রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়।



