দিনাজপুর জেলা কারাগারে শয্যাশয্যায় শয্যা থেকে উঠে দাঁড়াতে না পারা সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও পাঁচবারের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ৯ টা ৩০ মিনিটে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর ঘোষণাপত্র পায়।
ডাক্তারগণ জানান, সেনের অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং জরুরি সেবায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সেনকে ১৬ আগস্ট থাকুরগাঁও থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের আদেশে থাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠায়। এক দিন পর, ১৭ আগস্ট, তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। গ্রেফতারকালে তাকে তিনটি মামলায়, যার মধ্যে একটি হত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত, আটক করা হয়েছিল।
অভিযুক্ত মামলাগুলোর মধ্যে হিংসা সংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনও শূন্য। সেনের কারাবাসকালীন অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের মো. ফরহাদ সরকার জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতদেহটি পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মৃত্যুর পরবর্তী সকল প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে।
রমেশ চন্দ্র সেন ৩০ এপ্রিল ১৯৪০ সালে থাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মাতার নাম বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে পাঁচটি সংসদীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন।
সেনের মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে শূন্যতা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি দীর্ঘদিন থাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তার প্রভাবশালী ভূমিকা স্থানীয় দলীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন নির্বাচনী প্রস্তুতি চলমান হওয়ায় তার অনুপস্থিতি পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।
সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষই মৃত্যুর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে তার উত্তরসূরি বা পারিবারিক সদস্যদের রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব ও পার্টির গঠনমূলক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



