গত বৃহস্পতিবার রাত, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোকাম্মেল হক চৌধুরী রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টি প্রার্থী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন, যদি জাতীয় পার্টি শাসন গ্রহণ করে। এই মন্তব্য স্থানীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক শেয়ার হয়।
মোকাম্মেল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে এবং জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাদের ওপর কোনো অত্যাচার বা নির্যাতন সহ্য করা হবে না। এছাড়া তিনি জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে, আওয়ামী লীগের সব চলমান মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
বক্তব্যের মূল অংশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শেখ হাসিনাকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনব এবং আওয়ামী লীগের সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করব”। এই প্রতিশ্রুতি তার উপস্থিতি থাকা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিতদেরকে প্রশ্ন করে বলেন, “কি আনিস ভাই করবেন না প্রত্যাহার?” যা সমাবেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
মোকাম্মেল হক চৌধুরী রংপুর আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন এবং তার বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। তিনি রংপুরের রাজনৈতিক মঞ্চে বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার পেশাগত পরিচয় ও স্থানীয় ভিত্তি তাকে জনসাধারণের সামনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়।
পরিবারিক দিক থেকে তার সংযোগও রাজনৈতিক। তার চাচাতো ভাই ডিউক চৌধুরী, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন, এবং আনিছুল হক চৌধুরী, যিনি পূর্বে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, উভয়ই তার চাচা। এই সম্পর্কগুলো রাজনৈতিক জগতে তার প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করে। তবে তিনি এই সম্পর্কগুলোকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেন।
জনসভায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় থেকে আসা স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কৌশল, ভোটার সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য দেখায় যে জাতীয় পার্টি রংপুর অঞ্চলে তার সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট।
বদরগঞ্জ উপজেলার জামায়াত-এ-ইসলামি শাখার আমির মো. কামরুজ্জামান কবিরও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি জাতীয় পার্টির কার্যক্রমকে “ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে ফেরাতে” কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার এই মন্তব্যের পর, জামায়াতের স্থানীয় শাখা জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি এরপর তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে তারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা না করে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করতে কাজ করবে। এই প্রকাশনা স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হয়। দলটি উল্লেখ করে যে তাদের লক্ষ্য দেশের শাসনব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
মোকাম্মেল হক চৌধুরীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল শি.হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর সমাপ্তি। তিনি উপস্থিতদেরকে আহ্বান জানান, “আনিস ভাই, মামলাগুলো প্রত্যাহার করুন”। এই আহ্বান স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে এবং সমাবেশের পরিবেশকে উজ্জীবিত করে।
জাতীয় পার্টি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে রংপুরের গ্রামীণ ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে। রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্র, এবং উভয় প্রধান দলই ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন রকমের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। জাতীয় পার্টি শাসন গ্রহণের পর তাদের ঘোষিত নীতি বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি জাতীয় পার্টি শাসন গ্রহণ করে, তবে শাসনকালে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো সরকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এই বিষয়গুলো কেবলমাত্র ঘোষণার স্তরে থাকবে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নীতি ও কার্যকরী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সামাজিক মিডিয়ায় মন্তব্যের ব্যাপক প্রচার এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি দেখায় যে জাতীয় পার্টি রংপুর অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে চায়। ভবিষ্যতে রংপুর-২ আসনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এই জনসভা এবং ঘোষণার পরবর্তী ধাপগুলো দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।



