ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া সরকার থেকে অশোধিত তেল ক্রয়ের জন্য ভারত এ-কে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই পদক্ষেপটি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোর মধ্যে ভারত এ, চীন এবং ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী পদক্ষেপে ২০২৩ সালে ভারত এ-র ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের মোট শুল্ক হার ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। সেই শুল্ক বাড়ানোর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং আমদানি মূল্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।
রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট নতুন বিলের পেশের জন্য ইতিবাচক অনুমোদন দিয়েছেন। গ্রাহাম উল্লেখ করেছেন যে এই বিলটি শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং তা নিয়ে ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিলের বিষয়বস্তু অনুযায়ী রাশিয়া সরকার থেকে সস্তা তেল ক্রয়কারী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। গ্রাহাম দাবি করেন যে এই ব্যবস্থা রাশিয়া সরকারকে যুদ্ধ অর্থায়ন থেকে বাধা দিতে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শাসনবিধি রক্ষা করবে।
ভারত এ সরকার ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় জোর দিয়েছে যে কোনো সিদ্ধান্ত দেশের ভোক্তাদের স্বার্থ এবং তেলের মূল্য বিবেচনা করে নেওয়া হবে। নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার উল্লেখ করেছে যে রাশিয়া তেলের দাম এবং সরবরাহের স্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া সরকারকে লক্ষ্য করে ২০২২ সালের শুরুর দিকে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে, তবে পুতিনের প্রশাসন তখন তেল বিক্রির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বড় ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই ছাড়ের ফলে রাশিয়া সরকার যুদ্ধের অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
নতুন শুল্কের প্রস্তাবের ফলে চীন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, কারণ তারা রাশিয়া সরকার থেকে সস্তা তেল ক্রয় করে আসছে। এই দেশগুলোকে শুল্কের আওতায় আনা হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে মূল্য পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্গঠন ঘটতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে তার নীতি-নির্ধারণের ক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেখা হচ্ছে। শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি রাশিয়া সরকারকে আর্থিকভাবে দুর্বল করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন করতে চান।
সংসদে বিলটি যদি অনুমোদিত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া সরকারবিরোধী নীতি শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেলের দাম ও সরবরাহের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ভারত এ এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নও অনিবার্য হতে পারে।



