প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সম্প্রতি প্রকাশিত ভারাণসী ছবির প্রচারমূলক সাক্ষাৎকারে তেলুগু ডেবিউ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। স্ক্রিন র্যান্টের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি উল্লেখ করেন যে শেষবার কখন তেলুগু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তা স্মরণ করতে পারছেন না। একই সময়ে সহ-অভিনেতা মহেশ বাবু মন্তব্য করেন, “এটি তার প্রথম তেলুগু ছবি।”
তবে এই বক্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ২০১৩ সালে তেলুগু সংস্করণে মুক্তিপ্রাপ্ত জঞ্জীরের রিমেক “থুফান”-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই ছবিতে রাম চরণ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন এবং প্রিয়াঙ্কা তার প্রেমিকের ভূমিকায় ছোট একটি চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন।
“থুফান” মূলত বলিউডের ক্লাসিক জঞ্জীরের তেলুগু রূপান্তর, যেখানে রাম চরণ ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পারস্পরিক ক্রিয়া সীমিত হলেও ছবির গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে। প্রিয়াঙ্কা তখন তেলুগু শিল্পে নতুন ছিলেন এবং এই সুযোগের জন্য তিনি নির্মাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সেই সময়ের তেলুগু বাজারে তার উপস্থিতি সীমিত ছিল, ফলে বলিউডে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তিনি এই প্রকল্পকে একটি সোনার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। “থুফান”-এর একটি সিনিয়র টিম সদস্যের মতে, প্রিয়াঙ্কা যখন এই ছবিতে স্বাক্ষর করেন, তখন হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের বেশিরভাগ নির্মাতা তাকে নিয়োগ দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। টিমটি তখনও তার ভূমিকাকে বড় স্ক্রিনে বড় নামের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ না বলে বিবেচনা করলেও, প্রিয়াঙ্কা আনন্দের সঙ্গে কাজ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন ভারাণসীর তেলুগু ডেবিউ নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি পূর্বের “থুফান” অংশগ্রহণটি উল্লেখ না করার জন্য কিছু লোক তাকে নির্বাচনী স্মৃতিভ্রংশের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যের মতে, তিনি যখন “থুফান”-এ কাজ করছিলেন, তখন তার ভবিষ্যৎ গ্লোবাল স্টার হওয়ার সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট ছিল না, তাই ভূমিকা ছোট হলেও তিনি তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেন।
ভারাণসী প্রকল্পের দল এই ছবিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার তেলুগু ডেবিউ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। তবে এই প্রচারণা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। চলচ্চিত্রের বাজারে সত্যিকারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রচার করা শিল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তেলুগু চলচ্চিত্রে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পূর্ববর্তী উপস্থিতি “থুফান”-এ সীমিত হলেও, তা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। তার এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি পরবর্তীতে বলিউড ও হিন্দি-ইংরেজি উভয় ক্ষেত্রেই বিশাল সাফল্য অর্জন করেন। বর্তমান সময়ে তার নতুন প্রকল্পের প্রচারকালে অতীতের কাজগুলোকে উপেক্ষা করা শিল্পের নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করে।
চলচ্চিত্র শিল্পে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রচার করা দর্শকের আস্থা জোরদার করে এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়তা করে। তাই ভারাণসী দলের উচিত প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার তেলুগু ডেবিউকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, যাতে তার ক্যারিয়ারের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসকে সম্মান জানানো যায়।
সারসংক্ষেপে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তেলুগু চলচ্চিত্র “থুফান”-এ ২০১৩ সালে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তার প্রথম তেলুগু কাজ হিসেবে স্বীকৃত। ভারাণসীকে তার নতুন তেলুগু প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে করা হলে দর্শকের জন্য আরও স্বচ্ছ এবং ন্যায্য হবে।



