বাংলাদেশে শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা, প্রণোদনা ও মেয়েদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করার পর থেকে, শিক্ষার প্রবেশাধিকারে বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে প্রাথমিক স্তরে বাধ্যতামূলক শিক্ষা, খাবার ও নগদ ভাতা এবং মেয়েদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা মিলিয়ে ভর্তি সংখ্যা বাড়ে এবং লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য কমে।
এই অগ্রগতির পরেও ২০২৬ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্তের মুখোমুখি হয়ে, শিক্ষা ব্যবস্থার পুরনো সরঞ্জামগুলো আর যথেষ্ট নয় বলে স্পষ্ট হয়েছে। ক্লাসরুমগুলো এখন বেশিরভাগই পূর্ণ, তবে শিক্ষার গুণগত মান ও বাস্তব সুযোগের দিক থেকে ঘাটতি রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ১৪‑১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা ত্যাগ করে, এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্নের হার এখনও অস্থির।
শিক্ষা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত, ফলে শিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই ফাঁকটি বিশেষভাবে জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ পায়, যখন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের ফলে বিশাল প্রতিবাদ হয়। আন্দোলনটি শুধুমাত্র কোটা নিয়ে নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা গ্রহণের পরেও ন্যায্য কাজের সুযোগ না পাওয়ার হতাশা প্রকাশ করে।
গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভাতা পরিকল্পনা (FSSSP) দেশের অন্যতম সফল নীতি হিসেবে স্বীকৃত। এই পরিকল্পনা শিক্ষার প্রবেশাধিকারে বড় ভূমিকা রাখে এবং মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করে। তবে বর্তমান সংকট দেখায় যে, শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্তরে ভাতা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়; শিক্ষার পুরো ধাপকে সমর্থন করতে হবে।
সফলতার উদাহরণ থেকে পাওয়া শিক্ষা হল, শিক্ষার শুরু থেকেই যথাযথ বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ফলাফল ভালো হয়। এখন সময় এসেছে প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা—বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়—কে সার্বজনীন ও উচ্চমানের করে তোলার। এ ধরণের ব্যবস্থা শিশুর মৌলিক জ্ঞান, সামাজিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সংযোগকে শক্তিশালী করবে।
প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সরকারকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং সাশ্রয়ী সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে, পরিবারকে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। এভাবে শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই পরিবর্তনগুলোকে কার্যকর করতে, নীতি নির্ধারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা এবং তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা। শিক্ষার সব স্তরে সমতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা না হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হবে।
আপনার এলাকার শৈশব শিক্ষা কীভাবে উন্নত করা যায়, অথবা আপনার সন্তান/শিশুদের জন্য কোন ধরনের প্রারম্ভিক শিক্ষার সুযোগ আছে, তা নিয়ে ভাবুন এবং স্থানীয় শিক্ষা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করুন।



