বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ঢাকা‑৪ আসনের প্রার্থী সাহেল আহম্মেদ, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোনে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রচারের জন্য দল থেকে ৩০,০০০ টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল, তবে দলের চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে এখনো অর্থ পাননি। ফলে তিনি নিজের সঞ্চয় এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার নিয়ে মোট ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রার্থী উল্লেখ করেন, ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা ধার নেওয়া হয়েছে, আর মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকেও কিছু পরিমাণে সহায়তা পেয়েছেন। এই তহবিল দিয়ে তিনি প্রচারের মৌলিক খরচ মেটাতে চেষ্টা করছেন, যদিও তহবিলের ঘাটতি তাকে ব্যানার ছাড়া সরাসরি ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
প্রচারের সময় তিনি কোনো বড় ব্যানার ব্যবহার না করে, হাতে হাতে লিফলেট বিতরণে মনোনিবেশ করেছেন। তবে লিফলেটের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় সব ভোটারকে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে; কিছু এলাকায় তিনি একাধিকবার ঘুরে ঘুরে লিফলেট ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাহেল আহম্মেদ স্বীকার করেন যে, প্রচারকালে তিনি নিজের মেয়ে, ছোট বোন, শ্যালিকা এবং ফুফাতো ও মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে আছেন। আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য কিছু লোকের কাছে হাস্যকর মনে হয়, আবার অন্যরা এই পদ্ধতিকে স্বাভাবিক ও স্বাগত জানায়।
কিছু পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেন যে, আত্মীয়দের সঙ্গে প্রচার চালানো ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পারিবারিক বন্ধন ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রকাশের একটি উপায় হতে পারে, তবে অন্যদিকে এটি রাজনৈতিক প্রচারের পেশাদারিত্বের প্রশ্ন তুলতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু নাগরিকের মুখে হাসি ও সমালোচনা উভয়ই শোনা যায়।
প্রার্থী তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি ঢাকা শহরের পোস্তগোলা এলাকায় গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির একটি দোকান পরিচালনা করেন। এই দোকানটি তার নির্বাচনী ব্যয়ের একটি অংশ পূরণে সহায়তা করছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাকে কিছু সমর্থনও দিচ্ছে।
সাহেল আহম্মেদ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তিত হয় এবং স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে ১৫‑২০ বছরের মধ্যে তিনি ভোটের মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।
প্রার্থীর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকও ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রচার কৌশলের বৈচিত্র্য প্রার্থীদের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা‑৪ মত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আসনে, স্বল্প সম্পদে কীভাবে ভোটারকে আকৃষ্ট করা যায়, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী হিসেবে সাহেল আহম্মেদের প্রচার দলীয় সমর্থন ও আর্থিক সহায়তার অভাবে সীমাবদ্ধতা অনুভব করলেও, আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা ও নিজের ব্যবসা থেকে আয় দিয়ে তিনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই পদ্ধতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সারসংক্ষেপে, সাহেল আহম্মেদের ঢাকা‑৪ নির্বাচনী প্রচার আর্থিক ঘাটতি, সীমিত প্রচার সামগ্রী এবং আত্মীয়-স্বজনের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে গঠিত। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করতে পারে, তবে বর্তমান পর্যায়ে তার প্রচার কৌশল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা তার ভোটার ভিত্তি গঠনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



