প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের একজন সহকারীকে জেফ্রি এপস্টেইন ডিনার আয়োজনের অনুরোধ জানানো একাধিক ইমেইল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ইমেইলগুলোতে এপস্টেইন তার “খুব সুন্দর বন্ধু”কে লন্ডনে ডিনারের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছেন। ইমেইলগুলো ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ডেভিড স্টার্নকে প্রেরিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ইমেইলে এপস্টেইন লিখেছেন, “একজন অত্যন্ত সুন্দর বন্ধু মঙ্গলবার লন্ডনে আসছেন। অ্যান্ড্রু তাকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানাতে চাইতে পারেন।” এই বার্তাটি ডেভিড স্টার্নের কাছে পাঠানো হয়, যিনি রাজার ঘাঁটি ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলোতে ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্টার্নের মাধ্যমে এপস্টেইন এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রু সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
ডেভিড স্টার্ন, একজন জার্মান নাগরিক এবং বিনিয়োগকারী, রাজার ঘাঁটির বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত ইমেইল আদানপ্রদান করে রাজকীয় ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এই সময়ে এপস্টেইনের অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর জনসাধারণের তীব্র নজরদারি ছিল।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু ২০০৮ সালে নাবালকের যৌন শোষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কাটিয়ে দেওয়ার দাবি করে আসছেন। তবে প্রকাশিত ইমেইলগুলো দেখায় যে, তার সহকারী স্টার্নের মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। বিবিসি (Bbc) স্টার্নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের “সুন্দর বন্ধু”র সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। ইমেইলগুলোতে শুধুমাত্র ডিনার আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে, তবে সাক্ষাতের নিশ্চিতকরণ বা প্রত্যাখ্যানের কোনো রেকর্ড নেই।
অন্যান্য প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায় স্টার্ন ২০১৭ সালে এপস্টেইনকে উইন্ডসর ক্যাসেলে একটি ডিনারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। এটি এপস্টেইনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রায় দশ বছর পরের ঘটনা, যা আবারও জনমতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এপস্টেইন ২০১০ সালের আগস্টে একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ২৬ বছর বয়সী রাশিয়ান নারীর সঙ্গে ডিনার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সেই সময়ের ইমেইলগুলোও শুধুমাত্র প্রস্তাবের রূপে রয়ে গিয়েছিল, কোনো নিশ্চিতকরণ ছিল না।
ডেভিড স্টার্নের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের সময়সীমা ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং এতে রাজকীয় ব্যবসা, দাতব্য কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্টার্ন একই সময়ে পিচ@প্যালেস (Pitch@Palace) নামে একটি স্টার্ট‑আপ প্রতিযোগিতার পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন, যেখানে উদ্যোক্তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে তাদের ধারণা উপস্থাপন করতেন।
স্টার্ন ২০১৯ সালে পিচ@প্যালেসের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পরেও তিনি ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত উইন্ডসর ক্যাসেলে অবস্থিত সেন্ট জর্জ হাউস ট্রাস্টের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ট্রাস্টটি রাজার ঘাঁটির ঐতিহাসিক ও দাতব্য কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করে।
এপ্রিলে ২০১৭-এ স্টার্ন এপস্টেইনকে একটি “সুপার” ডিনার আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়ে ইমেইল পাঠান, যেখানে ডিনারটি উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই ইমেইলটি এপস্টেইনের সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মার্কিন ন্যায়বিচার বিভাগ এই ইমেইলগুলোকে প্রমাণের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে চলমান তদন্তে সহায়তা করছে। বর্তমানে কোনো আদালতিক প্রক্রিয়া চালু না থাকলেও, এই নথিগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হতে পারে।
জনসাধারণের দৃষ্টিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও এপস্টেইনের সম্পর্কের পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছে। সরকারী সংস্থা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।



