23 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশাল ক্ষতি

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশাল ক্ষতি

চট্টগ্রাম বন্দরতে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছয় দিনের ধর্মঘটের ফলে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটেছে। ধর্মঘটের সময় বন্দর সংযুক্ত ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ১৩,০০০ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার আটকে যায়, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই গার্মেন্টস পণ্য। লোডিং‑আনলোডিং বন্ধ থাকায় এই কনটেইনারগুলো সময়মতো জাহাজে তোলার সুযোগ পাননি, ফলে রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে যায়।

ধর্মঘটের শেষের পর বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও রপ্তানিকারকরা জানান, আটকে থাকা কনটেইনারগুলোকে দ্রুত জাহাজে তোলার প্রচেষ্টা চললেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগবে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারার ফলে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও দেশের গার্মেন্টস ইমেজে আঘাতের সম্ভাবনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সম্পর্কে উদ্বেগ তীব্রতর হয়েছে।

ডিপোতে আটকে থাকা কনটেইনারগুলোকে জাহাজে তোলার কাজ চলমান, তবে একই সঙ্গে নতুন পণ্যও ডিপোতে পৌঁছাচ্ছে। একবার আটকে থাকা পণ্য জাহাজে তোলার পর নতুন কনটেইনার রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করতে হবে, যা অতিরিক্ত সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হওয়া স্বাভাবিক, এবং ধারাবাহিক বিলম্ব গার্মেন্টস শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিএমইইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, বন্দর বন্ধ থাকার কয়েক দিনেই গার্মেন্টস শিল্পের ক্ষতি সীমাহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা কঠিন, তবে ইমেজের ক্ষতি আর্থিক ক্ষতির চেয়ে বেশি গুরুতর। বিদেশি ক্রেতারা এই পরিস্থিতিতে অর্ডার দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন, যা দেশের রপ্তানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্য নির্ধারিত সময়ে জাহাজে না তুললে ক্রেতার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থতা ঘটে, ফলে লিড টাইম মিস হয়। একবার লিড টাইম মিস হলে ক্রেতা পণ্যের চালান নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, এবং গার্মেন্টস মালিকদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। ধর্মঘটের সময় জাহাজ চলাচল বন্ধ করা একটি অনন্য ঘটনা, যা দেশের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষুণ্ন করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই ধরণের ব্যাঘাত গার্মেন্টস শিল্পের রপ্তানি প্রবাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানি আদেশের বিলম্বের ফলে অর্ডার পুনরায় বিবেচনা করা হতে পারে, এবং নতুন অর্ডার অর্জনে অতিরিক্ত সময় ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বিশ্বাসের ফাঁক পূরণে অতিরিক্ত গুণমান ও সময়সীমা নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে।

বন্দরের অপারেশনাল কাজ পুনরায় শুরু হলেও, ডিপোতে আটকে থাকা কনটেইনারের পরিমাণ এবং নতুন পণ্যের প্রবাহের কারণে শিপিং লাইনগুলোকে অতিরিক্ত সময়সূচি সামঞ্জস্য করতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে শিপিং খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা রপ্তানিকারকদের মার্জিনে চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, রপ্তানি সময়সীমা মিস হলে ক্রেতাদের কাছ থেকে দেরি শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা বাড়ে, যা আর্থিক ক্ষতির পরিধি বাড়িয়ে দেয়।

গার্মেন্টস শিল্পের জন্য এই পরিস্থিতি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। শ্রমিকদের অধিকার ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করার পাশাপাশি, বন্দর অবকাঠামো ও লজিস্টিক্স ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ জরুরি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করে রপ্তানি চেইনকে স্থিতিশীল করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ধাক্কা এড়ানো যায়।

সংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দরতে শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে গার্মেন্টস রপ্তানিতে প্রায় ১৩,০০০ টিইইউএস কনটেইনার আটকে যাওয়া, ৮০ শতাংশ পণ্যের গার্মেন্টস হওয়া, এবং রপ্তানি সময়সূচি ব্যাহত হওয়া শিল্পের জন্য বড় আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি বয়ে এনেছে। রপ্তানিকারকরা এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময়ের প্রয়োজন অনুভব করছেন, এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments