23 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যবাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে এক রোগীর মৃত্যু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছেন

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে এক রোগীর মৃত্যু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণে এক রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। রোগীটি ২৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরের দিন রক্ত ও স্যাঁতসেঁতে তরলে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে WHO-তে জানানো প্রথম নিপাহ সংক্রমণ সংক্রান্ত ঘটনা।

নিপাহ ভাইরাস মূলত ফলের বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায় এবং শ্বাসযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। পূর্বে বাংলাদেশে ২০০১, ২০০৪ এবং ২০০৭ সালে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে, তবে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বর্তমান কেসটি রোগীর দ্রুত অবনতি এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

রোগীটি ২৮ জানুয়ারি একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথা ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি রক্ত ও স্যাঁতসেঁতে তরলে নিপাহ ভাইরাসের অ্যান্টিজেন সনাক্ত করা হয়, যা রোগের নিশ্চিত নির্ণয় হিসেবে কাজ করে। রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর শোকবর জানানো হয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিয়মাবলী (IHR) ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট (NF) ৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই সংক্রমণ সম্পর্কে অবহিত করে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে তথ্য প্রেরণের পর WHO দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঝুঁকি কম থাকায় সতর্কতা প্রকাশ করে।

একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুইজন রোগীর নিপাহ সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়, যা বাংলাদেশে ঘটনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রকাশ পায়। উভয় দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে, যদিও এই কেসে মৃত্যু ঘটেছে, তবুও নিপাহ ভাইরাসের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের ঝুঁকি বর্তমানে কম বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় না, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোগের বিস্তার রোধে সক্রিয় নজরদারি চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে দ্রুত সনাক্তকরণ ও আইসোলেশন প্রোটোকল মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, বাদুড়ের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ এড়াতে এবং কাঁচা পণ্য সঠিকভাবে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং কখনো কখনো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগের সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা এবং রোগীর স্যাঁতসেঁতে তরল পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা এবং আইসোলেশন ব্যবস্থা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই সাধারণ জনগণকে অপ্রয়োজনীয় বাদুড়ের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকতে এবং রোগের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে WHO আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য শেয়ারিং ও গবেষণা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিস্তার রোধে টিকাদান ও ওষুধের উন্নয়নেও মনোযোগ দেওয়া হবে।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে WHO আশ্বাস দিয়েছে, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

পাঠকগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যদি কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দেয় তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত পরামর্শ নিন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments