ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণের হুমকি প্রকাশের পর, কানাডা ও ফ্রান্স উভয়ই এই ড্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে সমর্থন জানাতে কনস্যুলেট স্থাপন করতে যাচ্ছে। দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন নুউকে, গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে, এই শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
কানাডা থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি দল নুউকে গন্তব্যে রওনা হয়েছে। দলের মধ্যে কানাডার গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ অন্তর্ভুক্ত, এবং তাদের সঙ্গে একটি কোস্টগার্ড জাহাজও রয়েছে। সাইমন ভ্রমণের আগে এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডি সরকার গ্রিনল্যান্ডের জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদেরই থাকবে।
ফ্রান্সের কূটনৈতিক প্রতিনিধিও একই সময়ে নুউকে পৌঁছাবে এবং তাদের কনস্যুলেটের উদ্বোধন করবে। উভয় দেশের কনস্যুলেটের উন্মোচন গ্রিনল্যান্ডে বিদেশি কূটনৈতিক উপস্থিতির ঐতিহাসিক সম্প্রসারণের সূচক, যেখানে পূর্বে শুধুমাত্র আইসল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কনস্যুলেটই ছিল।
গ্রিনল্যান্ডের কূটনৈতিক পরিসরে এই পরিবর্তন নেটো মিত্রদের সমর্থনকে দৃঢ় করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনতে চাওয়ার পর, ফ্রান্স ও কানাডার কনস্যুলেট খোলার সিদ্ধান্ত গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি স্পষ্ট সংকেত।
কানাডা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে গ্রিনল্যান্ডে কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। মূলত ২০২৫ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল, তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এখন নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, এবং এই সপ্তাহের শেষের দিকে কনস্যুলেটের দরজা খুলবে।
ফ্রান্সের কূটনৈতিক মিশনও একই সময়ে গ্রিনল্যান্ডে উপস্থিতি বাড়াবে। উভয় দেশের কনস্যুলেটের কাজের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের কনস্যুলার সেবা প্রদান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি, এবং নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পদক্ষেপগুলো গ্রিনল্যান্ডের কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষা করবে। একই সঙ্গে, নেটো মিত্রদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করবে।
গ্রিনল্যান্ডের সরকার এই কনস্যুলেট উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দ্বীপের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে। কনস্যুলেটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্য কনস্যুলার সেবা সহজলভ্য হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, কানাডা ও ফ্রান্স উভয়ই গ্রিনল্যান্ডে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রকল্পের জন্য তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উত্তরাঞ্চলীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কানাডা ও ফ্রান্সের কনস্যুলেট উদ্বোধন গ্রিনল্যান্ডের কূটনৈতিক পরিসরে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি এবং নেটো মিত্রদের সমন্বিত সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। এই পদক্ষেপগুলো ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি স্থিতিশীল ভিত্তি গড়ে তুলছে।



