23 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান হামলার পর পাকিস্তানের পাশে দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান হামলার পর পাকিস্তানের পাশে দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ

৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান প্রদেশে একাধিক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণ ঘটার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ান বিষয়ক ব্যুরো (SCA) পাকিস্তানের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘অনড়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA)কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

SCA টুইটারে জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে তারা পাকিস্তানের পাশে রয়েছে এবং নৃশংস হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সংস্থাটি বর্ণনা করেছে যে BLA-র কার্যক্রম ‘ভয়াবহ’ এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা গুলিবর্ষণ পরবর্তী গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে আগস্ট ২০২৫-এ BLA-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা নীতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এই তালিকাভুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি BLA-র তহবিল ও সরবরাহ চ্যানেল বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। তালিকাভুক্তির পর থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো গোষ্ঠীর আন্তর্জাতিক সমর্থন হ্রাসে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে একসাথে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণ, যা BLA-ই দায় স্বীকার করেছে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে পরিণত হয়। আক্রমণটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা ক্যাম্প ও জনবহুল এলাকায় বিশাল ক্ষতি করা।

হামলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকসহ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা একশের বেশি হতে পারে এবং বহু আহতও রয়েছে। আহতদের জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলো দ্রুতই ভর্তি হয়ে গিয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করছে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত রক্তের দান ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।

হামলার পরপরই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী বেলুচিস্তানে বিস্তৃত দমন অভিযান চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল অবশিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নির্মূল করা। অপারেশনটি গৃহযুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী অশান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পরিকল্পিত। এই অভিযানকে ‘অপারেশন শুদ্ধি’ নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এতে এয়ারসাপোর্ট ও বিশেষ বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়াতে লক্ষ্য করা হয়েছে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই অভিযান চলাকালে ২১৬ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। তারা দাবি করে যে এই সংখ্যা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণের পরপরই গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল।

এই ঘটনাটি অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা করার প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিক মাসে দু’দেশের যৌথ অ্যান্টি-টেরর প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং উদ্যোগের সূচনা হয়েছে, যা এই ধরনের হুমকির মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। পূর্বে অনুষ্ঠিত ‘জয়েন্ট শিল্ড’ ব্যায়াম, যেখানে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল, এই ধরনের সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে। এছাড়া, দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো নিয়মিতভাবে সীমানা নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয় সভা চালিয়ে যাচ্ছে।

একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, ‘বেলুচিস্তানের এই আক্রমণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্বরিত সমর্থন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরায় জোরদার করে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ধরনের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করতে সহায়ক হবে।’

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, BLA-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন, গোষ্ঠীর আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা কমাতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য পাকিস্তানকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।

আসন্ন মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সম্ভবত সীমানা নিরাপত্তা, গোয়েন্দা শেয়ারিং এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়াবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধির

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments