16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাকর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত কারখানা কর্মী গড়ে তুলেছেন দুই মিলিয়ন বইয়ের গ্রন্থাগার

কর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত কারখানা কর্মী গড়ে তুলেছেন দুই মিলিয়ন বইয়ের গ্রন্থাগার

কর্ণাটকের দক্ষিণে অবস্থিত পাণ্ডবপুরা গ্রামে ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত চিনি কারখানার কর্মী অঙ্কে গোয়ড়া, পাঁচ দশক ধরে সংগ্রহ করা দুই মিলিয়ন বইয়ের বিশাল গ্রন্থাগার পরিচালনা করছেন। এই সংগ্রহটি সকলের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে যে কেউ বিনামূল্যে বই ধার নিতে পারে।

গোয়ড়া ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন; তার পরিবার কৃষিকাজে যুক্ত ছিল এবং বই ছিল একধরনের বিলাসিতা। শৈশবে তিনি বইয়ের অভাবে কৌতূহলকে তাড়া করতেন এবং প্রায়ই পিতামাতার কাছ থেকে টাকা ধার করে বই কেনার চেষ্টা করতেন।

বছরের পর বছর বই সংগ্রহের ফলে তার সংগ্রহে বিরল বাইবেল সংস্করণ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্যসহ প্রায় সব বিষয়ে বই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আধ্যাত্মিক নেতাদের জীবনীকে মিষ্টি মতো উপভোগ করতেন।

পাণ্ডবপুরার এই গ্রন্থাগারটি প্রচলিত লাইব্রেরির মতো কঠোর শৃঙ্খলা অনুসরণ করে না; এখানে কোনো লাইব্রেরিয়ান নেই এবং বইগুলো তাকের উপর ও মেঝেতে এলোমেলোভাবে সাজানো আছে। যদিও সাজসজ্জা অনিয়মিত, তবে নিয়মিত আসা পাঠকরা দ্রুত প্রয়োজনীয় বই খুঁজে পান।

গ্রন্থাগারের বাইরে বড় বড় তন্তু ব্যাগে প্রায় আট লক্ষ বই এখনও আনপ্যাক করা বাকি আছে, যা ভবিষ্যতে সংগ্রহে যুক্ত হবে। এই ব্যাগগুলো ছাদে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং নতুন দান ও কেনাকাটার মাধ্যমে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ছাত্র, শিক্ষকেরা, অভিভাবক এবং বইপ্রেমীরা প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসেন; তারা পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পেতে এখানে সময় কাটান। যারা নির্দিষ্ট বই খুঁজে পান না, তবুও তারা জানেন যে গোয়ড়া যেকোনো শিরোনাম খুঁজে দিতে সক্ষম।

গোয়ড়া, তার স্ত্রী এবং পুত্র গ্রন্থাগারের এক কোণে বাস করেন, ফলে তারা বইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে পারেন। গ্রন্থাগারটি সপ্তাহের সাত দিন, দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকে, যা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি করেছে।

শৈশবে তিনি স্কুলের পাশাপাশি পিতার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন, তবে বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি। প্রথমে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনী পড়ে তিনি বইয়ের প্রতি প্রেমে মত্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

একজন শিক্ষক তার ছোট সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেন, ফলে তিনি ধীরে ধীরে নিজের একটি ছোট লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগ্রহটি বিশাল আকারে রূপান্তরিত হয় এবং এখন দেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার হিসেবে স্বীকৃত।

গত মাসে তাকে ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, পদ্মশ্রী, প্রদান করা হয়। এই সম্মান তার পাঠ্যসাহিত্য প্রচার এবং স্বশিক্ষা উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজও গোয়ড়া নতুন বই কেনা ও দাতাদের কাছ থেকে দান গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ বাড়িয়ে চলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

আপনার আশেপাশে যদি কোনো অনুরূপ উদ্যোগ থাকে, তবে তা সমর্থন করা বা নিজের ছোটো বই সংগ্রহ গড়ে তোলার কথা বিবেচনা করুন; জ্ঞান ভাগাভাগি করা সবসময়ই সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments