23 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপিএসসি আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের খসড়া পাঠালেও বাংলাদেশ সরকারের কোনো উত্তর নেই

পিএসসি আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের খসড়া পাঠালেও বাংলাদেশ সরকারের কোনো উত্তর নেই

পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে; তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই পদক্ষেপটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নেওয়া হয়েছে, যখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংবিধানিক সংস্থা হিসেবে পিএসসির স্বায়ত্তশাসনের দাবি দীর্ঘদিনের দাবি, তবে বাস্তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা ছাড়া কমিশনের কাজের গতি ও দক্ষতা প্রভাবিত হওয়ার কথা সংস্থার নেতৃত্ব উল্লেখ করেছে।

প্রস্তুত খসড়াটি জানুয়ারি মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পিএসসির চেয়ারম্যান উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে আধা-সরকারি পত্র (ডি.ও. লেটার) প্রদান করেন। এরপরও সরকারী দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য শোনা যায়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি উপলব্ধ ছিলেন না। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তাই পিএসসির প্রস্তাবের উপর সরকারী অবস্থান স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের কাছাকাছি আসায়, পিএসসির স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তা সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কিছু আপত্তি প্রকাশ পেয়েছে। তবে তারা প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া আর্থিক বিষয়গুলো অগ্রসর করা কঠিন হওয়ায় পিএসসি এই বাধা দূর করার দাবি তুলে ধরেছে।

পিএসসির কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা না থাকায় প্রায়ই কাজের গতি ধীর হয়ে যায় এবং সময়সীমা মেনে চলা কঠিন হয়। সংস্থার কর্মীরা নিজেদেরকে অসহায় মনে করেন, যদিও সংবিধানে স্বায়ত্তশাসনের কথা উল্লেখ আছে।

সম্প্রতি পিএসসির কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; এক বছরের মধ্যে বিসিএস (বেসিক সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য বলে সংস্থার নীতিনির্ধারকরা জোর দিয়েছেন।

স্বায়ত্তশাসন পেলে কমিশনের কাজের গতি ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, বলে পিএসসির নেতৃত্বের ধারণা। বর্তমান প্রক্রিয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক স্তরের অনুমোদন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ এবং কাজের ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করে।

পিএসসির চেয়ারম্যান, অধ্যাপক মোবাশ্বর মোনেম, উল্লেখ করেন যে, প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংবিধানে নির্ধারিত স্বাধীনতা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, স্বায়ত্তশাসন না থাকায় কমিশন এখনও সরকারী অন্যান্য অধিদপ্তরের মতোই সীমাবদ্ধতা ভোগ করে।

পিএসসি এখনো সরকারী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হলে পাবলিক সার্ভিসের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংস্থার নেতৃত্ব আশা প্রকাশ করেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments