মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গতকাল রাশিয়া ও চীনকে ত্রিপক্ষীয় পারমাণবিক অস্ত্র সীমা নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব তুলে ধরেছে, কারণ নিউ স্টার্ট চুক্তি বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে গেছে। এই চুক্তি পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে প্রত্যেককে ১,৫৫০টি পারমাণবিক যুদ্ধবর্ম স্থাপন সীমাবদ্ধ করত, এবং এর মেয়াদ শেষ হওয়া প্রথমবারের মতো দশকের পর বিশ্বকে কোনো চুক্তি ছাড়া রেখে দিয়েছে।
জাতিসংঘের অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের অধীন স্টেটের উপ-সচিব থমাস ডিন্যানো রাশিয়ার ধারাবাহিক লঙ্ঘন, বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্টকপিলের বৃদ্ধি এবং নিউ স্টার্টের নকশা ও বাস্তবায়নের ত্রুটিগুলোকে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান হুমকিগুলো মোকাবিলার জন্য এমন একটি নতুন কাঠামো দরকার যা অতীতের নয়, আজকের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে।
ডিন্যানো চীনের পারমাণবিক সঙ্কলনের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, উল্লেখ করেন যে চীনের পুরো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার কোনো সীমা, স্বচ্ছতা, ঘোষণাপত্র বা নিয়ন্ত্রণের অধীন নয়। তিনি এও বলেন, ভবিষ্যৎ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় রাশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণ অপরিহার্য, যাতে সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, যার মধ্যে নিউ স্টার্টের সীমাবদ্ধতা আরেক বছর বাড়িয়ে রাখার প্রস্তাব ছিল, এবং নতুন, উন্নত ও আধুনিক চুক্তি দাবি করেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নিরুৎসাহের প্রতিশ্রুতি এবং মিত্রদের প্রতি বিস্তৃত নিরুৎসাহের দায়িত্ব পূরণে যথেষ্ট নয়।
চীন ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছে, যা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার জন্য একটি বাধা সৃষ্টি করে। নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পরবর্তী কয়েক মাসে পারমাণবিক অস্ত্রের অবস্থান ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হতে পারে, এবং নতুন চুক্তি না হলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনকে জেনেভা ভিত্তিক আলোচনার টেবিলে বসতে আহ্বান জানাবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যান্য পারমাণবিক শক্তির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল বর্তমান পারমাণবিক হুমকিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বিশ্ব নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা।



