গত সপ্তাহে গানা সরকার এক জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে গানা পাসপোর্ট প্রদান করেছে, যা আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয়তা গ্রহণের নতুন প্রবণতার সূচক। এই ধারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের উত্স চিহ্নিত করার ফলে ত্বরান্বিত হয়েছে।
আফ্রিকান মহাদেশের সঙ্গে আফ্রিকান-আমেরিকানদের ঐতিহাসিক সংযোগ শতাব্দীর পুরনো। ১৮২২ সালে লিবারিয়া, আফ্রিকার প্রথম প্রজাতন্ত্র, মুক্ত দাসদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে গানা স্বাধীনতা অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী সেখানে স্থানান্তরিত হন, যার মধ্যে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, মালকম এক্স এবং মুহাম্মদ আলি অন্তর্ভুক্ত। গিনি দেশে ব্ল্যাক প্যান্থার নেতার স্টোকেলি কারমাইকেলও বসতি স্থাপন করেন।
এই ঐতিহাসিক সেতু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢিলা-দুর্বল হয়েছে, তবে ডিএনএ বিশ্লেষণের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় উজ্জ্বলতা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন আফ্রিকান-আমেরিকান সেলিব্রিটি নতুন আফ্রিকান নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। গায়িকা সিয়ারা বেনিনের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, র্যাপার লুডাক্রিস এবং অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন গ্যাবনের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন।
অভিনেত্রী মিগান গুড এবং তার স্বামী জোনাথন মেজরস গিনির নাগরিকত্ব গ্রহণের পর ডিএনএ টেস্টে তাদের বংশধর গিনির সঙ্গে যুক্ত পাওয়া যায়। গায়ক স্টিভি ওয়ান্ডার গানার নাগরিকত্ব পেয়েছেন, যা গানা সরকারের ২০২৪ সালের একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয়।
ইশো স্পিড, যিনি ইউটিউব ও টিকটকে বিশাল অনুসারী গড়ে তুলেছেন, গানা সফরের সময়ই গানা পাসপোর্ট পেয়ে গেছেন। তার এই পদক্ষেপটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানগুলো প্রায়ই ভ্রমণ, স্থানীয় পর্যটনস্থল পরিদর্শন এবং ফটোশুটের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা সেলিব্রিটিদের সামাজিক নেটওয়ার্কে শেয়ার করা হয়। মিগান গুড গিনিতে তার নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে ৭.৮ মিলিয়ন অনুসারীর সামনে “এটি চলমান ইতিহাস” বলে উল্লেখ করেন।
গুডের মন্তব্যে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি কেবল শিরোনাম নয়, এটি আত্মীয়তার পুনর্মিলন এবং আফ্রো-উৎপত্তি মূলের সঙ্গে পুনঃসংযোগের প্রতীক। তার স্বামী মেজরসও একইভাবে এই অভিজ্ঞতাকে আত্মিক ঘরে ফিরে আসার মতো বর্ণনা করেছেন।
আফ্রিকান সরকারগুলোও এই প্রবণতাকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থনমূলক বার্তা প্রকাশ করেছে। গানা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আডো স্টিভি ওয়ান্ডারের গানা নাগরিকত্ব প্রদানকে “একটি গর্বের মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন।
এই ধরনের উদ্যোগগুলো কেবল সেলিব্রিটিদের জন্য নয়, পুরো আফ্রিকান-আমেরিকান সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। নাগরিকত্বের মাধ্যমে তারা নিজ দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।
ডিএনএ টেস্টের ব্যবহার পূর্বপুরুষের উত্স নির্ণয়ে নির্ভুলতা এনে দিয়েছে, ফলে অনেকেই তাদের বংশধর দেশের সঙ্গে পুনর্মিলন করতে পারছেন। এই প্রক্রিয়া সেলিব্রিটিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অনুপ্রাণিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক এই পথে অগ্রসর হবেন, যা আফ্রিকান দেশগুলোর পর্যটন ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই প্রবণতা উভয় দিকের জন্যই পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন অধ্যায় খুলে দেবে।



