প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর এবং সারা ফারগুসন, ডিউক অফ ইয়র্কের স্ত্রী, সম্প্রতি প্রকাশিত ইমেইল ফাইলের মাধ্যমে তাদের কন্যা, প্রিন্সেস বেট্রিস (৩৭) ও প্রিন্সেস ইউজেনি (৩৫)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন তথ্যের মুখোমুখি হয়েছেন। এই ইমেইলগুলোতে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল পরিবারের দুই কন্যা এবং দেরি ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রকাশিত নথিগুলো বিবিসি নিউজের মাধ্যমে জনসাধারণের নজরে আসে।
বেট্রিস ও ইউজেনি, যাঁরা পূর্বে রয়্যাল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় কম আলোতে ছিলেন, এখন এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিশদে জড়িয়ে পড়েছেন। ইমেইলগুলোতে দেখা যায় এপস্টেইন তাদেরকে মিয়ামিতে একসাথে খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যা ঘটেছিল এপস্টেইনকে নাবালক যৌন শোষণের জন্য কারাদণ্ডের পর মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিন পরে।
মিয়ামি ভ্রমণের সময় বেট্রিস ২১ বছর এবং ইউজেনি ১৯ বছর বয়সী ছিলেন। সেই সময়ে দুজনেই রয়্যাল পরিবারের তরুণ সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের সামাজিক নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিলেন। ইমেইলে উল্লেখিত লাঞ্চের পরে এপস্টেইন তাদেরকে নিজের পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এবং বাকিংহাম প্যালেসের ট্যুরের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।
বাকিংহাম প্যালেসের ট্যুরের বিষয়ে ইমেইলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এপস্টেইন তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের জন্য রয়্যাল পরিবারের সদস্যদের গাইড হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। এই ধরনের অনুরোধের ফলে রয়্যাল পরিবারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু হয়।
প্রকাশিত তথ্যের ফলে জনমতেও তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই নতুন প্রমাণগুলো রয়্যাল পরিবারের দুই কন্যার ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও জনসাধারণের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যখন এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তখন জনগণ তাদের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে।
কিছু মন্তব্যকারী এই ইমেইলগুলোকে “অসুবিধাজনক” বলে উল্লেখ করেছেন, তবে একই সঙ্গে বেট্রিস ও ইউজেনির প্রতি সহানুভূতির সুরও বজায় রেখেছেন। তারা যুক্তি দেন যে তরুণ বয়সে রয়্যাল পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ ও প্রভাবের মাত্রা সাধারণ নাগরিকের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু লেখক ও বিশ্লেষক স্পষ্টভাবে বলছেন যে বেট্রিস ও ইউজেনি যখন এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন, তখন তারা শিশু নয়, পূর্ণবয়স্ক ছিলেন এবং এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ছিলেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে “অপরাধের শিকার” হিসেবে নয়, বরং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু সবসময়ই নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত কোনো অপরাধের অস্বীকার করেছেন এবং এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে তার নামের উপস্থিতি কোনো দোষের প্রমাণ নয় বলে দাবি করছেন। তার এই অবস্থান রয়্যাল পরিবারের অভ্যন্তরে ও বাহ্যিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইউজেনি ও বেট্রিসের ভবিষ্যৎ রয়্যাল পরিবারের মধ্যে কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এখন স্পষ্ট নয়। যদিও তারা এখনও রয়্যাল পরিবারের সদস্য হিসেবে সরকারি কাজ ও দায়িত্ব পালন করছেন, তবে এই নতুন তথ্যের ফলে তাদের ভূমিকা ও জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ইমেইল ফাইলের প্রকাশ রয়্যাল পরিবারের দুই কন্যাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তাদের অতীতের সামাজিক সংযোগ, বিশেষ করে মিয়ামিতে লাঞ্চ ও প্যালেস ট্যুরের ঘটনা, জনমতকে বিভক্ত করেছে এবং রয়্যাল পরিবারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা রয়্যাল পরিবারের নীতি ও জনসাধারণের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করবে।



