অস্টিন বাটলার ল্যান্স আর্মস্ট্রং নামের দৌড়বিদের জীবনীমূলক চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। এই প্রকল্পটি কনক্লেভের পরিচালক এডওয়ার্ড বার্গার এবং ডেলিভার মি ফ্রম নাওয়েয়ার প্রযোজক স্কট স্টুবারের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে।
বার্গার চলচ্চিত্রের পরিচালনা দায়িত্বে থাকবেন, আর স্টুবার প্রযোজনা দলের সঙ্গে নিক নেসবিটকে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত করেছেন। দুজনের সমন্বয়ে প্রকল্পটি উচ্চমানের টিম গঠন করেছে।
স্ক্রিনপ্লে লেখার দায়িত্বে রয়েছেন জ্যাচ বেলিন, যিনি ‘কিং রিচার্ড’ ছবির জন্য অস্কার মনোনীত স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন। বেলিনের লেখনীকে ভিত্তি করে আর্মস্ট্রংের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হবে।
প্রযোজনা দলকে আরও সমর্থন করছেন জোশ গ্লিক এবং জ্যাক ফ্রোগনোস্কি, যারা এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে কাজ করবেন। তাদের অভিজ্ঞতা প্রকল্পের গুণগত মান বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্টুবারের ইউনাইটেড আর্টিস্টস শিঙ্গলে এই বায়োপিকটি অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ প্রকল্পটি তার পূর্বে শুরু হয়েছিল। ফলে এটি আমাজন এমজিএমের পুনরুজ্জীবিত ব্র্যান্ডের অধীনে নয়, বরং স্বাধীনভাবে বিকাশ পাচ্ছে।
এই স্বতন্ত্র অবস্থান প্রকল্পকে বাজারে আলাদা করে তুলেছে; ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্টুডিও থেকে আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ট্যালেন্টের সমন্বয়ে গঠিত প্যাকেজটি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
স্কট স্টুবার আর্মস্ট্রংয়ের জীবনের অধিকার অর্জন করেছেন, যা চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। এই অধিকার অর্জনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আর্মস্ট্রংয়ের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিকগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।
ল্যান্স আর্মস্ট্রং সাইক্লিং জগতে সর্বোচ্চ পরিচিত নাম, তিনি ট্যুর দে ফ্রান্সে ধারাবাহিকভাবে সাতটি শিরোপা জয় করে রেকর্ড গড়ে তোলেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে কিংবদন্তি করে তুলেছিল।
তবে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ইউএসএডিএ) তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ডোপিং তদন্ত চালায়। তদন্তে প্রকাশ পায় যে তিনি তার ক্যারিয়ার জুড়ে পারফরম্যান্স-এনহ্যান্সিং ড্রাগ ব্যবহার করেছেন। ফলে তার শিরোপাগুলো বাতিল করা হয়।
আর্মস্ট্রং এই অভিযোগের পরেও নিজের নির্দোষতা বজায় রেখেছেন এবং ডোপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার এই অবস্থান চলচ্চিত্রে কীভাবে উপস্থাপিত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে স্টুডিওগুলো থেকে অফার আসার সঙ্গে সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এই বায়োপিকটি সাইক্লিং ইতিহাসের উত্থান-পতন, ক্রীড়া নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মিশ্রণ উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকরা আর্মস্ট্রংয়ের উজ্জ্বল সাফল্য এবং বিতর্কিত অতীতের সমন্বয় থেকে নতুন দৃষ্টিকোণ পেতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, অস্টিন বাটলারের অভিনয় এবং উচ্চমানের নির্মাণ দল এই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দেবে। ভবিষ্যতে এই বায়োপিকটি কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



