১০ম সংস্করণের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ আজ ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের সূচনা রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ঘটছে; পূর্বে বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ড দিয়ে বদল করা হয়েছে এবং পাকিস্তান দল তাদের গ্রুপ ম্যাচে ভারতকে মুখোমুখি হতে না চেয়ে বিরোধের সূচনায় অংশগ্রহণ থেকে সরে গেছে।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান দল কোলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সকালবেলায় খেলা শুরু করবে। উভয় দলই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী গেমে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত, এবং ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্মুক্ত মঞ্চে নতুন সূচনা চিহ্নিত করবে।
দুপুরে কলকাতা শহরে স্কটল্যান্ড দল পশ্চিম ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে। স্কটল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, ফলে তাদের প্রথম ম্যাচটি হোস্ট শহরের ভক্তদের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ম্যাচকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
রাতের ম্যাচে শিরোপা রক্ষাকারী ভারত দল মুম্বাইতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলবে। এক বিলিয়নেরও বেশি ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশা এই গেমে সমবেত, এবং দলটি টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাতে চায়।
এই সবের পটভূমিতে জানুয়ারি ৩ তারিখে এক ঘটনা বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশীয় স্পিনার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আইসিসি নির্দেশে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে সরানোর অনুরোধ করে।
বিসিবির আবেদন আইসিসি কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হয়, এবং পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে, এবং স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত হয়।
পাকিস্তান দল আইসিসির দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার হুমকি জানায়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সরকার দলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়, তবে গ্রুপ পর্যায়ে কোলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারতবিরোধী ম্যাচে অংশ নিতে না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা পরবর্তী রাউন্ডে ভারতকে মুখোমুখি হলে সরকারী অনুমোদন চাইবে বলে জানিয়েছে।
ভারতের ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিশ্চিত করেছেন যে ভারতীয় দল কোলম্বোতে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হবে। তিনি দলকে প্রস্তুত অবস্থায় রাখার এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মানদণ্ড বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন গ্রুপের ম্যাচ ধারাবাহিকভাবে চলবে, এবং দলগুলোকে রাজনৈতিক অশান্তি সত্ত্বেও মাঠে মনোনিবেশ করতে হবে। আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ ফিরে আসবে, এবং ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে প্রতিটি গেমে উত্তেজনাপূর্ণ পারফরম্যান্সের।



