মেট্রোপলিটন পুলিশ পিটার ম্যান্ডেলসনের উইল্টশায়ার ও লন্ডনের উত্তর অংশে অবস্থিত সম্পত্তিগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, যা জনসেবা দুর্নীতির অভিযোগের অংশ। তদন্তের সূচনা হয় মঙ্গলবার, যখন সরকারী গোপনীয় তথ্যের লিকের সন্দেহ উঠে আসে, যেখানে ম্যান্ডেলসনকে দোষারোপ করা হয় যে তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে যে ম্যান্ডেলসনকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে অনুসন্ধান চলাকালীন কোনো জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
ম্যান্ডেলসন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি; তবে প্রকাশ্য সূত্র অনুযায়ী তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনো অপরাধে লিপ্ত হননি এবং তার কাজ আর্থিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়।
পূর্বে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও কন্যাদের প্রতি ক্ষমা চেয়েছেন। এই ক্ষমা প্রকাশের পরেও তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
অনুসন্ধানের সময় ম্যান্ডেলসন ক্যামডেনের কাছের তার বাড়িতে ছিলেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশকে উইল্টশায়ার সম্পত্তিতে প্রবেশের অনুমতি দেন, ফলে কোনো জোরপূর্বক প্রবেশের প্রয়োজন হয়নি।
অফিসাররা উইল্টশায়ার বাড়িতে আনফোল্ডেড আর্কাইভ বক্স এবং গুদামঘরগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন, পাশাপাশি বহিরাগত গুদামগুলোরও পরিদর্শন করা হয়।
অভিযোগের পটভূমি হল মার্কিন ন্যায়বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে ২০০৮ সালের ইমেইলগুলো, যেখানে ম্যান্ডেলসন তখন গর্ডন ব্রাউন সরকারের ব্যবসা মন্ত্রী ছিলেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যাংকারদের বোনাসের উপর এককালীন করের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দুই দিন পর এপস্টেইন ও ম্যান্ডেলসনের মধ্যে অতিরিক্ত কথোপকথন হয়েছে, যেখানে এপস্টেইন জিজ্ঞাসা করেন “জ্যামি” কি চ্যান্সেলর আলিস্টার ড্যারিংকে আরেকবার ফোন করা উচিত কিনা।
“জ্যামি” উল্লেখটি তখন জেপি মরগ্যানের সিইও জ্যামি ডিমনকে নির্দেশ করে, এবং ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে ফোন করার পরামর্শ দেন।
বর্তমান অবস্থায় ম্যান্ডেলসনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তদন্ত চলমান, এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের ওপর আর্থিক ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে, যা পার্টি ও সরকারী নীতি গঠনে অতিরিক্ত সতর্কতা দাবি করবে।



