16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডাকসু সমাবেশে এস এম ফরহাদ 'আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র নিবারণ' দাবি

ডাকসু সমাবেশে এস এম ফরহাদ ‘আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র নিবারণ’ দাবি

শুক্রবার রাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তার ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের মূল কারণ ছিল পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা‑কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু কর্মী আহত হওয়া, যা ছাত্র আন্দোলনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ উপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে না দেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন।

সেই রাতের আগে ইনকিলাব মঞ্চের একটি প্রতিবাদে পুলিশকে লক্ষ্য করে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়। পুলিশি হস্তক্ষেপের ফলে ইনকিলাব মঞ্চের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আহতের সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে ছাত্র সমাজে বিরোধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনার পর ডাকসু দ্রুত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে, যাতে আন্দোলনের মূল দাবি – শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার ন্যায়সঙ্গত বিচার – পুনরায় তুলে ধরা যায়।

ডাকসু সমাবেশে ফরহাদ উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বশীলরা বারবার ফোনে জানিয়েছেন যে একটি গোপন গোষ্ঠী, যা আওয়ামী লীগের অংশ হিসেবে কাজ করছে, পুলিশকে উসকানি দিয়ে আন্দোলনকে নষ্ট করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী একই সঙ্গে শাহবাগে পরিকল্পিত বৃহৎ জমায়েতেও অংশ নিয়ে আন্দোলনের দিক পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনী প্রভাব বাড়াতে চায়।

ফরহাদের মতে, এই গোপন গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে বিচ্যুত করে নির্বাচনের প্রশ্নবিদ্ধ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে শহীদ হাদির শহাদতকে নির্বাচনী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশল, যা তারা কোনোভাবে সফল হতে দিতে চায় না। তাই ডাকসু এই ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের ভেতরে সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে একই রাতের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, “লীগ অ্যাকটিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।” পোস্টে আরও বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবি এবং নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা চলছে, এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এই পোস্টটি ইনকিলাব মঞ্চের উদ্বেগকে স্পষ্ট করে, যা ডাকসু সমাবেশে ফরহাদের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডাকসু সমাবেশের আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গণজমায়েত ও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিক্ষোভের সময়সূচি ছিল রাত দশটার দিকে, যেখানে ফরহাদ সরাসরি উপস্থিত হয়ে তার মতামত প্রকাশ করবেন। সমাবেশের সময় তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।

ফরহাদ উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বশীলদের অনুরোধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ক্যাম্পাসের ভেতরে সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং একই সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বজায় থাকে। তিনি বলেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যা কোনো রাজনৈতিক কৌশলগত চালের মাধ্যমে বিকৃত করা যাবে না।

সমাবেশের শেষে উপস্থিত সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়। ফরহাদ শেষ কথা বলেন, “যদি কোনো গোষ্ঠী আমাদের আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিতে চায়, আমরা তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করব এবং আমাদের দাবি বজায় রাখব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ডাকসু স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখে তারা দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

এই সমাবেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ডাকসু ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং বাহিরে বিভিন্ন রূপে ন্যায়বিচার দাবি চালিয়ে যাবে, পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে নিরাপদ ও সুষ্ঠু প্রতিবাদ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা দেশের ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments