কেলি ও’সুলিভান এবং অ্যালেক্স থম্পসন তাদের নতুন চলচ্চিত্র ‘মাউস’কে ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্লিনেলেনে উপস্থাপন করছেন। এই কাজটি আরেকটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের সাফল্যের ধারাবাহিকতা, যা গোষ্টলাইটের প্রশংসা ও পুরস্কার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। ‘মাউস’ একটি আরকানসাস ভিত্তিক কিশোর-কিশোরীর জীবনের গল্প, যেখানে পরিবার, স্বপ্ন ও স্ব-অন্বেষণকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
‘গোষ্টলাইট’ নামে পূর্বের কাজটি ৫ লক্ষ ডলারের বাজেটে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শিকাগোর একটি বাস্তব পরিবারকে কল্পিত শোকের গল্পে অভিনয় করানো হয়। এই সীমিত বাজেটের মধ্যে পরিচালন দলটি স্থানীয় অভিনেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়। গোষ্টলাইটের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে যে কম সম্পদেও উচ্চমানের গল্প বলা সম্ভব।
গোষ্টলাইটের প্রথম প্রদর্শনী স্যান্ডেন্স চলচ্চিত্র উৎসবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তা তীব্র প্রশংসা পায় এবং দ্রুতই আইএফসি ফিল্মসের হাতে বিক্রি হয়ে যায়। চলচ্চিত্রটি স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের বহু নামকরণ পায় এবং ন্যাশনাল বোর্ড অফ রিভিউয়ের টপ ১০ ইন্ডি তালিকায় স্থান পায়। এই স্বীকৃতি দলকে স্বাধীন চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দিকে ধাবিত করে।
গোষ্টলাইটের সাফল্য কেলি ও’সুলিভান ও অ্যালেক্স থম্পসনকে স্বাধীন চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তারা ‘মাউস’ নামের বৃহত্তর স্কেলের প্রকল্পে হাত বাড়ায়, যা গোষ্টলাইটের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসকে ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। ‘মাউস’ তাদের পূর্বের কাজের তুলনায় বেশি জটিল ও বিস্তৃত, তবে একই সময়ে তাদের স্বতন্ত্র শৈলীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
‘মাউস’ একটি বিশাল কাহিনী, যেখানে আরকানসাসের গ্রামীণ পটভূমি ও কিশোর-কিশোরীর মানসিক পরিবর্তনকে একসাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিবারিক বন্ধন, স্বপ্নের অনুসরণ এবং সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে সংঘর্ষকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। এই থিমগুলোকে সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড ডিজাইনের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চিত্রনাট্যটি স্যোফি ওকোনেডোকে প্রধান ভূমিকায় রাখে, যিনি ২০০৪ সালের ‘হোটেল রুয়ান্ডা’তে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ওকোনেডো ‘মাউস’এ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সমৃদ্ধ ভূমিকা গ্রহণ করছেন, যা তার অভিনয় দক্ষতাকে নতুন মাত্রা দেয়। তার পার্শ্বে রয়েছে কেথরিন ম্যালেন কুপফারার, যিনি গোষ্টলাইটে কিশোরী চরিত্রে নজর কেড়েছিলেন এবং এখন ‘মাউস’এ প্রধান চরিত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত।
কেথরিনের অভিনয় গোষ্টলাইটের সময় থেকেই সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, এবং ‘মাউস’ে তার চরিত্রের বিকাশ তাকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কেলি ও’সুলিভান ও অ্যালেক্স থম্পসনের পরিচালন দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে একটি তাজা ও প্রভাবশালী গল্প তৈরি হয়েছে। এই সমন্বয় চলচ্চিত্রকে স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।
দুইজনের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ‘সেইন্ট ফ্রান্সেস’ (২০১৯) ছিল, যা তাদের স্বতন্ত্র শৈলী ও মানবিক গল্প বলার ক্ষমতা প্রকাশ করে। সেই চলচ্চিত্রের সাফল্য তাদেরকে গোষ্টলাইটের পথে অগ্রসর হতে সহায়তা করে এবং এখন ‘মাউস’ে তাদের সৃজনশীল দিগন্তকে আরও বিস্তৃত করেছে।
বার্লিনেলেনের প্রধান স্ক্রিনে ‘মাউস’ের প্রিমিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সাহীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই উৎসবে চলচ্চিত্রটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দর্শকরা আরকানসাসের গ্রামীণ দৃশ্য, কিশোরীর স্বপ্ন ও বাস্তবতার মিশ্রণ উপভোগ করতে পারবেন।
‘মাউস’ স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাজারে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে, বিশেষ করে সীমিত বাজেটেও উচ্চমানের গল্প তৈরি করার ক্ষমতা প্রমাণ করে। গোষ্টলাইটের মতোই এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক উৎসবে স্বীকৃতি পেলে, তা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ‘মাউস’ কেলি ও’সুলিভান ও অ্যালেক্স থম্পসনের সৃজনশীল যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাদের পূর্বের সাফল্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। চলচ্চিত্রটি বার্লিনের শীতল বাতাসে একটি উষ্ণ মানবিক গল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করবে।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য ‘মাউস’ একটি অপেক্ষারত দৃষ্টান্ত, যা স্বাধীন চলচ্চিত্রের শক্তি ও সম্ভাবনা পুনরায় নিশ্চিত করবে। বার্লিনেলেনের পরবর্তী প্রোগ্রাম ও রিভিউ অনুসরণ করে, আপনি এই কাজের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিক সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবেন।



