কোলোম্বিয়ার তরুণ ফরোয়ার্ড জোন ডুরান গত বছর অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। ক্লাবের প্রধান কোচ উনাই এমেরি দলকে দশ বছর, এমনকি পনেরো বছর পর্যন্ত একসাথে গড়ে তোলার স্বপ্ন প্রকাশ করেন। তিনি ওলিভি ওয়াটকিন্সের সঙ্গে ডুরানের সমন্বয়কে ভবিষ্যৎ দিকের ভিত্তি হিসেবে দেখেছিলেন।
সেই সময়ে আরসেনালসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ক্লাবের আগ্রহের খবরও প্রকাশ পায়। তবে ওলিভি ওয়াটকিন্স অ্যাস্টন ভিলায়ই রয়ে গেছেন, আর ডুরান তার পরবর্তী গন্তব্যের সন্ধানে ছিলেন। বার্মিংহাম ছেড়ে তিনটি ভিন্ন সময় অঞ্চলে তিনটি ক্লাবে খেলতে গিয়ে তার পা ঘুরে বেড়েছে বলে মিডিয়া মন্তব্য করেছিল।
ডুরানের ভক্তরা বিশেষ করে একবারের সামাজিক মিডিয়া লাইভে তার অস্বাভাবিক ক্রসড-আর্মস ‘আইরনস’ পোজটি স্মরণ করেন, যা ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানান্তরের আগে প্রকাশ পেয়েছিল, তবে সেই চুক্তি শেষমেশ সম্পন্ন হয়নি। এই ঘটনার পর ডুরান আবার অ্যাস্টন ভিলার সমর্থকদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে চেয়েছিলেন।
সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ তিনি ২৭টি ম্যাচে ১২টি গোল করেন, যার মধ্যে কিছু গোলকে ‘বিশ্বের সেরা’ হিসেবে প্রশংসা করা হয়। এই পারফরম্যান্স তাকে সৌদি আরবের আল-নাসরে ৬৪ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
ডুরানের পূর্ব সহকর্মী আমাদৌ ওনানা তাকে ‘উদ্যমী তরুণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, আর দলের আরেকজন খেলোয়াড় জন ম্যাকগিন তাকে ‘কিছুটা পাগল, কখনও কখনও দলের জন্য ঝামেলা’ বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যগুলো ডুরানের মাভেরিক এবং স্বতন্ত্র শৈলীর ইঙ্গিত দেয়।
ক্লাবের অভ্যন্তরে তার সময়সূচি, মাঠে চাপের ধরন এবং ওলিভি ওয়াটকিন্সের তুলনায় পেছনে থাকা অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। তার অনিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষণের সময় দেরি করা কখনো কখনো কোচের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল-নাসরে যোগদানের পর ডুরানকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩৫৫,০০০ পাউন্ড বেতন প্রদান করা হয়। এই চুক্তি তাকে আর্থিক দিক থেকে বড় সুবিধা এনে দিলেও, তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এটি ‘উদ্যমের অভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি তিনি ওয়েস্ট হ্যামে গিয়ে থাকতেন তবে একই সমালোচনা না হতো।
তবে ডুরানের আল-নাসরে সময় দীর্ঘায়িত হয়নি। ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে তাকে তুর্কি ক্লাব ফেনারবাহচে ঋণাভিত্তিকভাবে পাঠানো হয়। বোসফোরাসের তীরে তার সংক্ষিপ্ত সময়কালে তিনি কিছু ম্যাচে অংশ নেন, তবে এখনও কোনো স্থায়ী পারফরম্যান্সের রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি।
ফেনারবাহচে ঋণাভিত্তিক চুক্তি শেষ হওয়ার পর ডুরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও অনিশ্চিত। তার এজেন্টের মতে, তিনি ইউরোপীয় লিগে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ডুরানের ক্যারিয়ার এখন পর্যন্ত তিনটি ভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে, যা তার ‘ইচি’ পা’র প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। তার পারফরম্যান্সের গুণগত মান এবং আর্থিক চুক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন তার এবং তার দল উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ।
অ্যাস্টন ভিলার বর্তমান মৌসুমে ওলিভি ওয়াটকিন্সের গতি বজায় থাকলেও, ডুরানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বা বিকল্প বিক্রয় নিয়ে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এখনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভবিষ্যতে তিনি কোন দিকনির্দেশে পা বাড়াবেন, তা তার নিজের পছন্দ এবং বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।



