চট্টগ্রামের ফাটিকছড়ি উপজেলা, কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার রাতের একটি সমাবেশে হেফাজত-ই-ইসলামের আমীর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী মুসলিম ভোটারদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন। তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি পার্টির প্রতি ভোটদানকে ‘অনুমোদনযোগ্য নয়’ বলে ঘোষণা করেন।
সমাবেশটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত শ্রোতারা প্রধানত চট্টগ্রামীয় উপভাষায় কথা শোনেন, যা বক্তার বার্তাকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
বাবুনগরী বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে জানাতে হবে যে জামায়াত-এ-ইসলামি পার্টির জন্য ভোট দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই মন্তব্যকে ধর্মীয় নীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করেন।
বক্তৃতার অংশ হিসেবে তিনি ভিডিওতে চট্টগ্রামীয় উচ্চারণে এই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি রাতারাতি শেয়ার হয়ে হাজারো ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বাবুনগরী একই সময়ে বিএনপি-নির্বাচিত প্রার্থী সারওয়ার আলমগীরকে উল্লেখ করে বলেন, তারা সরাসরি তার সমর্থন না দিলেও, তার প্রার্থীতা ব্যবহার করে জামায়াত-এ-ইসলামির বিরোধিতা করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সারওয়ার আলমগীরের উপস্থিতি কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা জামায়াত-এ-ইসলামির প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে। এভাবে হেফাজত-ই-ইসলাম তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে চায়।
বাবুনগরী আরও সতর্ক করেন, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি সরকার গঠন করে, তবে তা ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনবে। তিনি এই সম্ভাব্য শাসনকে ধর্মীয় ভিত্তি নষ্টের ঝুঁকি হিসেবে চিত্রিত করেন।
তিনি বলেন, এমন শাসন ইসলামকে উখুঁড়ে ফেলবে এবং মুসলিম সমাজের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করবে। এই মন্তব্যে তিনি ধর্মীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন।
বক্তৃতার পর ভিডিওটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহারকারীরা মন্তব্যে হেফাজত-ই-ইসলামের অবস্থানকে সমর্থন বা সমালোচনা করে।
এই বিবৃতি বিশেষত চট্টগ্রাম-২ (ফাটিকছড়ি) নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে পারে। হেফাজত-ই-ইসলামের ধর্মীয় নির্দেশনা স্থানীয় মুসলিম ভোটারদের পার্টি পছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের আগে এই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেলবন্ধন ভোটের গতিপথকে পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে যখন ধর্মীয় গোষ্ঠী ভোটারদের সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।
অধিকন্তু, হেফাজত-ই-ইসলামের এই অবস্থান পার্টিগুলোর মধ্যে জোট গঠনের কৌশলিক দিককে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।



