17 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি দু’টি প্রধান দল ঘনিষ্ঠভাবে প্রচার চালাচ্ছে। উভয় পার্টির কর্মী-সমর্থকরা জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে দিনরাত কাজ করছেন, যেখানে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি সীমিত।

এই আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির ঐতিহাসিক জয় ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে ঘটেছে, তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে দলটি আবার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি এই জেলায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং জয় রক্ষার জন্য কোনো কমতি রাখতে চায় না।

আওয়ামী লীগের প্রভাবহীন ভোটের মাঠে তিনটি আসনেই জামায়াত-এ-ইসলামি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। দুই দলের নেতারা আওয়ামী লীগের ভোট সংগ্রহে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছেন, ফলে ভোটের ফলাফল দুই দলের ‘ভোট-ব্যাংক’কে নির্ধারক হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রচার কার্যক্রমে আসনভেদে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কিছু এলাকায় প্রচার যথেষ্ট সক্রিয়, তবে অন্য কিছু স্থানে ‘পানসে’ অর্থাৎ প্রচারের অভাব স্পষ্ট। ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা ভিত্তিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহান মিঞা তার ‘ধানের শীষ’ নিয়ে লড়াই করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামির মো. কেরামত আলীর নাম উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া মো. আব্দুল হালিম (সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট), নবাব মো. শামসুল হোদা (ইসলামী ফ্রন্ট), মোহা. আফজাল হোসেন (জাতীয় পাটি) ও মো. মনিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন) ও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এ সব প্রার্থীর মধ্যে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।

উপজেলা স্তরে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে শাহীবাজার ইউনিয়নের আবুল কালাম, মোবারকপুর ইউনিয়নের সেতাব উদ্দিন, কানসাট ইউনিয়নের হাফিজুর রহমান এবং শিবগঞ্জ পৌর এলাকার রনি আহমেদ মতামত প্রকাশ করেছেন। আবুল কালাম উল্লেখ করেন, “এই আসনে প্রার্থী সংখ্যা ছয়জন হলেও জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপির প্রচার বেশি শোনা যাচ্ছে। অন্য প্রার্থীর প্রচার তেমন নেই। দুই-এক জায়গায় লাঙ্গলের ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেলেও অন্যদের তাও নাই।” সেতাব উদ্দিন যোগ করেন, “বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জয়ের জন্য দুদলই চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের ও সংখ্যালঘুর ভোট পক্ষে টানার।” হাফিজুর রহমান বলেন, “বিএনপির শাহজাহান মিঞা এমপি হয়েছিলেন চারবার আর জামায়াত-এ-ইসলামির কেরামত আলী উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন দুইবার। তাই এ আসনে ভোটের অংক মেলানো কঠিন।” রনি আহমেদ মন্তব্য করেন, “এ নির্বাচন পানসে লাগছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ…” (বাক্যটি শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট নয়)।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রচার কৌশল ও ঘনিষ্ঠ সমর্থনকারী গোষ্ঠীর উপস্থিতি ভোটের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে উভয় দলই সংখ্যালঘু ও স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে। যদি জামায়াত-এ-ইসলামি তার ঐতিহাসিক জয় পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তা বিএনপির দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে। অন্যদিকে, বিএনপি যদি জয় নিশ্চিত করতে পারে, তবে তার জয় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং পার্লামেন্টে তার প্রভাব বাড়বে।

ভোটারদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষত যখন আওয়ামী লীগের উপস্থিতি সীমিত এবং দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। নির্বাচনী দিন পর্যন্ত উভয় দলই প্রচার বাড়িয়ে তুলবে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিশ্রুতি দেবে।

এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনের ফলাফল কেবল এই তিনটি আসনের নয়, বরং জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments