ম্যাটেল জানুয়ারি মাসে অটিস্টিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রথম বার্বি পুতুলটি বাজারে ছাড়ে। পুতুলটি হালকা বেগুনি পোশাক, হেডফোন, সামান্য বিচ্যুত দৃষ্টিপাত এবং হাতে যোগাযোগ ট্যাবলেট ও ফিজেট স্পিনার ধারণ করে, যা অটিস্টিক ব্যক্তিরা প্রায়শই ব্যবহার করে এমন উপকরণকে প্রতিফলিত করে।
এই পুতুলের নকশা অটিস্টিক সম্প্রদায়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি হয়েছে, যাতে শিশু ও বয়স্ক উভয়ই নিজেদের অংশকে এই আইকনিক খেলনা দিয়ে চিহ্নিত করতে পারে। খেলনা দিয়ে কল্পনা ও রোল-প্লে করার সময়, গল্পগুলো আমাদের মনের ওপর প্রভাব ফেলে, আনন্দ দেয়, শান্তি আনে এবং কখনো কখনো ভয়ও জাগায়।
গল্পের শক্তি ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকেই প্রকাশ পায়। ইতিবাচক দৃষ্টান্তে, অটিস্টিক বার্বি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং সমাজে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ভুল তথ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গল্পগুলো ভুল ধারণা ও স্টেরিওটাইপকে শক্তিশালী করে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অটিজম সংক্রান্ত তথ্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেন। একই বছরে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) এর মরবিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্টে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে আট বছর বয়সের আগে অটিজম নির্ণয় প্রাপ্ত শিশুর হার প্রায় ১ এর মধ্যে ৩১টি। এই সংখ্যা সাম্প্রতিক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০০ সালে একই বয়সের শিশুর অটিজম নির্ণয়ের হার ছিল ১ এর মধ্যে ১৫০টি, যা তুলনায় আজকের হার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। গবেষকরা এই বৃদ্ধিকে মূলত অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের বিস্তার এবং রোগের শ্রেণীবিভাগের পরিবর্তনের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তবে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করে অটিজমকে একটি বিপর্যয়কর মহামারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অটিজমের বৃদ্ধি পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ভবিষ্যতে এই শিশুরা কর প্রদান, চাকরি, বা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না।
কেনেডি আরও বলেন, এই শিশুদের কবিতা লেখা, ডেটে যাওয়া বা এমনকি টয়লেট ব্যবহার করা এমনকি মৌলিক কাজেও অক্ষমতা থাকতে পারে। তার বক্তব্যে অটিজমকে একধরনের সামাজিক ব্যর্থতা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই ধরনের বিবৃতি সমাজে অটিজম সম্পর্কে ভয় এবং ভুল ধারণা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে অটিস্টিক বার্বি দেখায় যে, সঠিক উপস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পণ্যগুলো কীভাবে স্টিগমা কমাতে এবং স্বীকৃতি বাড়াতে পারে।
অটিজমের প্রকৃত বাস্তবতা হল, এটি একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত অবস্থা, যার বৈশিষ্ট্য সামাজিক যোগাযোগে চ্যালেঞ্জ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ। তবে, প্রতিটি ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ভিন্ন, এবং অনেক অটিস্টিক ব্যক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে সফলতা অর্জন করে।
গল্পের শক্তি ব্যবহার করে সঠিক তথ্য প্রচার করা জরুরি। যখন মিডিয়া এবং নীতি নির্ধারকরা বৈজ্ঞানিক ডেটাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেন, তখন তা জনসাধারণের ভুল ধারণা গড়ে তুলতে পারে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা গল্পগুলো সমাজের অন্তর্ভুক্তি এবং সমর্থন বাড়াতে পারে।
অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতি গঠন করা ভবিষ্যতে রোগীর জীবনমান উন্নত করবে। পাঠকদের জন্য প্রশ্ন রয়ে যায়: কীভাবে আমরা গল্পের মাধ্যমে অটিজমের বাস্তবতা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি এবং ভুল ধারণা দূর করতে পারি?



