৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, একই সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই হামলা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুলিশ লীগের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাবেরের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের দিনকে পরিবর্তন করা যায় না, কারণ এই নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা সহ বহু মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের নীলনকশা যদি বিকৃত হয়, তবে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা কঠিন হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনা নদীর তীরের পাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। তারা শুক্রবারের মধ্যে জাতিসংঘকে চিঠি পাঠানোর দাবি করে, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত হয়।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশ যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের পথে ব্যারিকেড গড়ে দেয় এবং তাদের অগ্রসর হওয়া বাধা দেয়। এই বাধা অতিক্রমের প্রচেষ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় পুলিশ জলকামান এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপে কিছু অংশে প্রতিবাদকারীরা আহত হয়।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকার জানায়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনি দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
আবদুল্লাহ আল জাবের সকল সমর্থককে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যে চিঠি পাঠাবে তা প্রকাশের পরই তার প্রকৃত বিষয়বস্তু জানা যাবে এবং কোনো ভুয়া চিঠি পাঠানো যাবে না।
পুলিশের আক্রমণকে নির্বাচন ব্যাহত করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, কারণ পূর্বে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে জাবেরের উদ্বেগের পটভূমিতে, তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো মুহূর্তে হিংসা ঘটতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করতে পারে। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, যাতে নির্বাচনের সময় কোনো হিংসা বা হস্তক্ষেপ না ঘটে এবং ভোটারদের স্বেচ্ছা ইচ্ছা পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়।



