ঢাকার শাহবাগে সন্ধ্যায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে পুনরায় হিংসাত্মক সংঘর্ষ ঘটেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলির বদলে গ্যাস ও শব্দ গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়, ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
দ্বিতীয় রাউন্ডের সূচনা প্রায় ১৯:৩৫ টায় হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর, রাত ২০:৪৫ টায় পুলিশ শাহবাগ থেকে প্রত্যাহার করে, তবে তৎক্ষণাৎ কিছু কর্মী ফিরে এসে মূল চত্বর পুনরায় দখল করে।
সংঘর্ষের আগে সন্ধ্যাবেলা ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা শাহবাগ চত্বরের কেন্দ্রে সিট-ইন প্রতিবাদ শুরু করেছিল। প্রতিবাদকারীরা স্লোগান শোনিয়ে সমাবেশের দৃঢ়তা প্রকাশ করছিল।
প্রায় ১৯:৩০ টায় পুলিশ কর্মীরা বার্ডেম হাসপাতালের পাশে থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। এই গতি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়।
প্রতিবাদকারীরা স্লোগান গেয়ে পুলিশ দিকের দিকে অগ্রসর হয়, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি হওয়া শুরু হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত দল ইন্টারকন্টিনেন্টাল দিক থেকে উপস্থিত হয়ে শব্দ গ্রেনেড ও গ্যাস শেল ব্যবহার করে ভিড়কে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
প্রতিবাদকারীরা ইস্পাতের ইট ও ইটের টুকরা দিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অবশেষে কর্মীরা শাহবাগ থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাছি ভবন ও কাটাবন দিকে রওনা হয়।
পুলিশ এখনও সময়ে সময়ে শব্দ গ্রেনেড ও গ্যাস শেল চালিয়ে ভিড়কে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই বিশৃঙ্খলার মাঝখানে এক মহিলা জানান যে তার আট বছর বয়সী ছেলে গায়েব হয়েছে। মারুফা মায়া বলেন, তার সন্তান ছোট বোনের সঙ্গে শাহবাগে ছিল, যখন তিনি রজু স্মৃতিস্তম্ভের দিকে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
একজন প্রতিবাদকারী ফারজানা স্মৃতি গ্যাসের ধোঁয়ায় চোখে আঘাত পেয়েছেন এবং হাদির ন্যায়বিচার দাবি করে সরকারের নিন্দা করেছেন।
আরেকজন প্রতিবাদকারী বোরহান সিয়াম জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (পিজি হাসপাতাল) পার্শ্ববর্তী রাস্তায় হঠাৎ পুলিশ আক্রমণ চালায়। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ ব্যাটন, শব্দ গ্রেনেড এবং ককটেল ছুঁড়ে মারছে, যা সাধারণত পুলিশ বাহিনীর সরঞ্জাম নয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিবৃতি সংগ্রহের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে। ভবিষ্যতে ঘটনার দায়িত্ব নির্ধারণে আদালতে মামলার দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।



