চট্টগ্রামের শোলশহর গেট‑২ চৌরাস্তা আজ বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দ্বারা প্রতিবাদ র্যালি ও সিট‑ইন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মীরা ঢাকা শহরে প্ল্যাটফর্মের নেতাদের ওপর ঘট alleged পুলিশ আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করে। র্যালি বিকাল দুইটায় শুরু হয়ে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
প্রতিবাদকারীরা গেট‑২ চৌরাস্তার কেন্দ্রে একত্রিত হয়ে শ্লোগান গাইতে গাইতে সিট‑ইন স্থাপন করে এবং রাস্তায় কোনো বাধা না রেখে চলাচল বজায় রাখে। কিছু বাসিন্দা জানায়, সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচলে অল্প বিলম্ব হয়েছে, তবে প্রধান সড়ক বন্ধ করা হয়নি। উপস্থিত সক্রিয় সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ চালিয়ে যায় এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে।
পঞ্চলাইশ থানা অফিসার‑ইন‑চার্জের মতে, কর্মীরা র্যালি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করেছে এবং রাস্তায় কোনো বাধা বা ব্যারিকেড স্থাপন করেনি। তিনি আরও জানান, ট্র্যাফিকের প্রবাহে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ উপস্থিতি সত্ত্বেও সমাবেশে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবাদের মূল কারণ হল আজ দুপুরে ঢাকা শহরের জামুনা সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও অন্যান্য কর্মীদের ওপর alleged পুলিশ আক্রমণ। কর্মীরা দাবি করে, আক্রমণটি অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রত্যাশিত ছিল এবং এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। এই ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের শাখা শোলশহরে সমাবেশের আহ্বান জানায়।
ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সন্ধ্যা পাঁচটায় একটি পোস্ট প্রকাশ করে, যেখানে আক্রমণকে “অপ্রত্যাশিত হিংসা” বলে নিন্দা করা হয় এবং একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হবে। কর্মীরা এই উদ্যোগকে ন্যায়বিচার অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মূল দাবি হল মৃত শরীফ ওসমান বিন হাদির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। গত বছর শরীফ ওসমান বিন হাদি প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন এবং তার হত্যা নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল। তার মৃত্যুর পর থেকে মঞ্চটি ধারাবাহিকভাবে সরকারের ওপর দায়িত্বশীলতা দাবি করে আসছে।
ঢাকায় গত সপ্তাহে একই মঞ্চের কর্মীরা জামুনা সরকারি বাসভবনের দিকে মার্চ করার সময় পুলিশ সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বাধা দিতে না পারার ফলে সমাবেশটি ভেঙে যায়। এই ঘটনা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের মধ্যে রাগ ও হতাশা বাড়িয়ে দেয়।
চট্টগ্রামের শাখা এই পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। তারা জানিয়েছে, যদি আক্রমণে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও বৃহত্তর প্রতিবাদ চালু করা হবে। কর্মীরা এই সতর্কতা দিয়ে সরকারের প্রতি চাপ বাড়াতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নীতির ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে এবং সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চের দাবি যদি যথাযথভাবে না মেনে নেওয়া হয়, তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুরূপ প্রতিবাদ বাড়তে পারে।
অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার আহ্বান জানায়। তারা জোর দিয়ে বলে, কোনো অবৈধ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, শোলশহরে অনুষ্ঠিত র্যালি ও সিট‑ইন ইনকিলাব মঞ্চের ন্যায়বিচার দাবির একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মীরা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ প্রতিবাদ পরিকল্পনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।



