শুক্রবার বিকাল প্রায় ৪:৩০ টায় ঢাকা শহরের শাহবাগ ও বাংলামোটর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ টুকরা মোতায়েন করা হয়। তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আক্কাছ আলী এই পদক্ষেপকে “বাড়তি সতর্কতা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, ঝামেলা বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
আলীর মতে, শাহবাগ ও বাংলামোটরের দিকে বর্তমানে অশান্তি দেখা দিচ্ছে, তাই অতিরিক্ত টুকরা এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট হামলার হুমকি পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি স্টারের কর্মীরা পুলিশের নির্দেশে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ পেয়েছেন, যাতে অফিসের আশেপাশে অতিরিক্ত ভিড় না হয় এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে। এই নির্দেশনা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
পূর্বে ১৮ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানকারী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ঐ ঘটনার ফলে অজানা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে প্রথম আলোয়ের মামলায় এবং ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে ডেইলি স্টারের মামলায় তেজগাঁও থানায় অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশের পরবর্তী অভিযানগুলোতে কয়েক দিনের মধ্যে ২৮ জন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পদক্ষেপগুলো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং দায়িত্বশীলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের যমুনা তীরের সামনে সমাবেশ করেন, যেখানে তারা হাদির বিচার চেয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিকাল চারটায় যমুনা দিকের দিকে রওনা হলে মঞ্চের নেতাকর্মীরা এবং পুলিশে সংঘর্ষ ঘটে, যা দ্রুতই ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের এলাকায় রণক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়। এই সংঘর্ষের ফলে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষের পর বিকেল পাঁচটায় মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবরোধ গঠন করে এবং সেখানে অবস্থান নেন। এই অবরোধের ফলে ট্রাফিক জ্যাম এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, এই পরিস্থিতিতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে পুলিশ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে পারে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করবে।



