21 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাশিয়া মার্কিন এপস্টেইন নথি প্রকাশকে ‘জীবন্ত নরক’ বলে সমালোচনা

রাশিয়া মার্কিন এপস্টেইন নথি প্রকাশকে ‘জীবন্ত নরক’ বলে সমালোচনা

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশকে কঠোর সমালোচনা করে ‘জীবন্ত নরক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নথিগুলোতে যৌন অপরাধের বিশদ তথ্য ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, যার মধ্যে তার ডায়েরি, ফ্লাইট লগ এবং আর্থিক রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এই নথিগুলোতে এপস্টেইনের যৌন শোষণ, মানব পাচার এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে।

জাখারোভা নথিগুলোকে ‘জীবন্ত নরক’ বলে অভিহিত করে রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এপস্টেইনের প্রধান সহযোগী গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলকে মাত্র বিশ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকা ও দায়িত্বের তুলনায় শাস্তি অপ্রতুল।

ম্যাক্সওয়েলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি এপস্টেইনের যৌন অপরাধে সহায়তা ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন। রাশিয়ার প্রতিনিধিরা এই শাস্তিকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া, জাখারোভা জোর দিয়ে বলেছেন, এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও আন্তর্জাতিক মাত্রা বিবেচনা করে কেন কোনো বৈশ্বিক তদন্ত শুরু করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নথিগুলোতে বহু দেশের উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তবু এখনো কোনো সমন্বিত তদন্তের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নথিগুলিতে এপস্টেইনের ডায়েরি ও আর্থিক নথিতে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সেলিব্রিটি অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে জোর দিয়ে দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে এখনো তা ঘটেনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, এপস্টেইন ও তার নেটওয়ার্কের অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই নথিগুলোকে স্বচ্ছভাবে প্রকাশের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে বলেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ নথি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এপস্টেইন মামলায় জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজন ও সহকর্মীদের ওপর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রাশিয়ার সমালোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ফেডারেল কারাগারে শাস্তি কাটছেন এবং তার বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আপিল শুনানি শীঘ্রই নির্ধারিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা তার শাস্তির পরিমাণ ও শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এপস্টেইনের সহকর্মী ও সহ-অপরাধীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কিছু সহ-অপরাধীর ওপর ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে, যা নথিগুলোর প্রকাশের পর ত্বরান্বিত হয়েছে।

এপস্টেইন নথি প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু দেশ ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব তদন্তের সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে, যাতে নথিগুলোতে উল্লেখিত সম্ভাব্য সহ-অপরাধীদের ওপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

সারসংক্ষেপে, রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নথি প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এপস্টেইন মামলায় নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই মামলাকে কীভাবে সামলানো হবে, তা ভবিষ্যতে আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments