21 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ইশতেহারে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে শীর্ষ অগ্রাধিকার ঘোষণা

বিএনপি ইশতেহারে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে শীর্ষ অগ্রাধিকার ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে ইশতেহার উপস্থাপন করেন। দলটি বলেছে, যদি ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে, তবে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্রতর হয়েছে।

ইশতেহারে দলটি উল্লেখ করেছে, দুর্নীতির বিস্তার রোধে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কার চালু করা হবে। কোনো ধরনের আপস না করে দুর্নীতির মূল কাঠামো ভাঙা হবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কাঠামো ও কার্যপ্রণালী পুনর্গঠন করা হবে, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। আইনগত শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে দায়িত্বশীলদের কঠোরভাবে দায়বদ্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করতে সরকারি সংস্থার কাজের পদ্ধতিতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে দলটি জোর দিয়েছে।

বিএনপি উল্লেখ করেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত দুর্নীতি সংশোধনী যথেষ্ট নয়। তারা দাবি করে, সংস্কারগুলো ত্বরান্বিত না হলে দুর্নীতির মূল সমস্যায় পৌঁছানো কঠিন হবে। তাই নতুন সরকারের অধীনে দ্রুত ও ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দলটি ২০০১ সালের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, যখন তাদের শাসনকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন’ লেবেল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করা হয়েছে বলে তারা দাবি করে। এই সাফল্যকে ভবিষ্যৎ সরকারের নীতি নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

বিএনপি আরও বলে, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে তারা রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে পদত্যাগের আগে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। সেই সময়ে দেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। দলটি এই সুনামকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি নির্মূলকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে, দলটি উল্লেখ করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই অপবাদ দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে।

বিএনপি দাবি করে, শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত নীতিমালার মাধ্যমে এই নেতিবাচক চিত্র থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তাদের মতে, সেই সময়ের সংস্কারগুলোই বাংলাদেশকে পুনরায় গর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে।

ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকার গঠন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, পাবলিক সেক্টরে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এসব ব্যবস্থা ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে বলে দলটি আশাবাদী।

বিএনপি এই পরিকল্পনাগুলোকে নির্বাচনের মূল প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে, যা ভোটারদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত শাসনের বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। অন্যদিকে, শাসনরত আওয়ামী লীগও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোর জন্য নিজস্ব পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে, যদিও বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। দুই দলের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই ইশতেহার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments