ম্যানচেস্টার সিটি প্রধান কোচ পেপ গুআর্দিয়োলা রোববার লিভারপুলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এর্লিং হাল্যান্ডকে “বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার” বলে প্রশংসা করেন। তবে তিনি এখনও নিশ্চিত করেননি যে হাল্যান্ড এই ম্যাচে স্টার্টিং ইলেকশন পাবেন, কারণ শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গুআর্দিয়োলা শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন, এবং হাল্যান্ডের বর্তমান ফর্ম নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।
হাল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে; শেষ বারো ম্যাচে মাত্র দুই গোলের নাম লিখতে পেরেছেন। এই ফর্মের প্রেক্ষিতে গুআর্দিয়োলা গত বুধবারের লিগ কাপ সেমি-ফাইনাল দ্বিতীয় লেগে নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে ৩-১ জয়লাভের সময় তাকে বেঞ্চে রাখেন। হাল্যান্ডের এই বাদ পড়া দলীয় আক্রমণে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি করেছে, যদিও দলটি জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।
সিজনের শুরুর দিকে হাল্যান্ডের গতি ছিল অবিশ্বাস্য; তিনি সব প্রতিযোগিতায় ১৪টি ম্যাচে ১৯টি গোল করে দ্রুততম সময়ে প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই রেকর্ড তাকে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল শ্যুটার হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে ধারাবাহিক গড়ে গোলের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ম্যানচেস্টার সিটির সামগ্রিক আক্রমণেও প্রভাব পড়েছে।
হাল্যান্ডের ফর্মের অবনতি দলের লিগে অবস্থানেও প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। শিরোপা লড়াইয়ের এই মুহূর্তে প্রত্যেক পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে, এবং হাল্যান্ডের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ফলাফলে বড় পার্থক্য আনতে পারে।
সিজনের পূর্বে ম্যানচেস্টার সিটি লিভারপুলকে ৩-০ স্কোর করে জয়লাভের সময় হাল্যান্ডের গোল ছিল দলের প্রধান সাফল্যগুলোর একটি। তবে গুআর্দিয়োলা স্পষ্টভাবে বলেন, হাল্যান্ডের এই ম্যাচে অংশগ্রহণের বিষয়টি আগামীকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, “আমি আগামীকাল পর্যন্ত জানি না, তবে আমি এক কথা বলতে পারি—এর্লিং বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার।” এই মন্তব্য হাল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে তুলেছে।
গুআর্দিয়োলা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও একই উত্তর পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি জানান, “আমার চুক্তিতে আর এক বছর বাকি আছে, এবং দুই মাস আগে যা বলেছি তা একই।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, কোচের চুক্তি শেষ হওয়ার সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত, যদিও তিনি ইতিমধ্যে নভেম্বর ২০২৪-এ দুই বছরের বাড়তি চুক্তি স্বাক্ষর করে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে থাকবেন।
কোচের চুক্তি সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি গুআর্দিয়োলা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে তার মতামত প্রকাশের জন্যও নজরে এসেছেন। ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে ফুটবলে মনোযোগ দিতে বলার পর তিনি প্রকাশ করেন, “আমি কোনো বিশেষ কিছু বলিনি, তবে আমি একজন ম্যানেজার হওয়ায় আমার অনুভূতি প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি সকল মতামতকে সম্মান করেন এবং বিশ্বব্যাপী সংঘাত—প্যালেস্টাইন, ইউক্রেন, সুদান—কে নিন্দা করেন।
গুআর্দিয়োলা আরও উল্লেখ করেন, “আমি সবগুলোই নিন্দা করি, এবং আমি বিশ্বাস করি যে একজন কোচের দায়িত্ব শুধুমাত্র মাঠে সীমাবদ্ধ নয়।” তার এই বক্তব্য ক্রীড়া ও সমাজের সংযোগের ওপর নতুন আলো ফেলেছে, যদিও কিছু গোষ্ঠী তার মন্তব্যকে বিতর্কের বিষয় হিসেবে দেখেছে।
রবিবারের লিভারপুলের সঙ্গে ম্যাচটি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য শিরোপা লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। গুআর্দিয়োলা শেষ মুহূর্তে হাল্যান্ডকে স্টার্টিং লাইনআপে রাখবেন কিনা তা নির্ধারণ করবেন, এবং তার সিদ্ধান্ত দলের আক্রমণগত বিকল্পকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ভক্তদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং হাল্যান্ডের উপস্থিতি দলকে গেমে অগ্রগতি এনে দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গুআর্দিয়োলা হাল্যান্ডকে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারে প্রশংসা করার পাশাপাশি তার বর্তমান ফর্ম, দলীয় অবস্থান এবং ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন। আসন্ন লিভারপুলের ম্যাচে হাল্যান্ডের ভূমিকা এবং কোচের চুক্তির অবস্থা উভয়ই ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



