১৪ বছর বয়সী ভৈভব সুর্যবংশী শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত অন্ডার‑১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ বলের মধ্যে ১৭৫ রান তৈরি করে দলকে ৪১১/৯ স্কোরে স্থাপন করেন। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেওয়া ভারত এ’র ওপেনার দ্রুতই ৩২ বলেই অর্ধশতক পূরণ করেন এবং ৫৫ বলেই শতক অর্জন করেন, যা টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের নতুন রেকর্ড হয়ে দাঁড়ায়।
সুর্যবংশীর আক্রমণাত্মক শটের মধ্যে ১৫টি চৌকো এবং ১৫টি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে তিনি টুর্নামেন্টে মোট ৩০টি ছয় মারতে সক্ষম হন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ২২টি ছয়কে অতিক্রম করেন। তার আউট হওয়া ২৬তম ওভারে তিনি ব্যাকহ্যান্ডে স্লগ সুইপের চেষ্টা করার সময় ক্যাচে ধরা পড়েন, তবে প্যাভিলিয়নে ফিরে আসার সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তাকে হাতমিলিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে উন্মুক্ত ১১১ রান করা উন্মুক্ত চাঁদ (Unmukt Chand) এর রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যান এবং ২০২২ সালে উগান্ডার বিপক্ষে রাজ বাবার ১৬২ রানকে অতিক্রম করে ভারত এ’র অন্ডার‑১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরের শিরোপা অর্জন করেন। টুর্নামেন্টের পুরো সময়ে তিনি ১৫টি চৌকো এবং ১৫টি ছয় দিয়ে ৪৬টি অতিরিক্ত রানের যোগফল তৈরি করেন, যা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুর্যবংশীর এই বিশাল ইনিংসের আগে তিনি ইতিমধ্যে আইপিএল-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৮ বলেই ১০১ রান করে সর্বকনিষ্ঠ টুয়েন্টি২০ সেঞ্চুরি রেকর্ড করেন। এছাড়া জুলাই মাসে উডসটরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭৮ বলেই ১৪৩ রান করে তার প্রথম অন্ডার‑১৯ সেঞ্চুরি তৈরি করেও তিনি বড় স্কোরের স্বাদ পেয়েছিলেন।
ফাইনালের শেষে ভারত এ’র স্কোর ৪১১/৯ হলে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ৪১২ রান চূড়ান্ত করতে, তবে তাদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স যথেষ্ট না হয়ে তারা টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ ভারত এ’র ছয়টি শিরোপা বাড়িয়ে ছয়তম শিরোপা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়, যা শেষবার ২০২২ সালে অর্জিত হয়েছিল। ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি ১৯৯৮ সালের একমাত্র শিরোপা জয়ের পর দ্বিতীয় শিরোপা অর্জনের চেষ্টার অংশ ছিল।
কোচিং স্টাফের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে সুর্যবংশীর আক্রমণাত্মক পদ্ধতি এবং শটের বৈচিত্র্য দলকে দ্রুত স্কোরে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে, এবং তার তরুণ বয়স সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় দায়িত্ব নিতে সক্ষম। দলটি এখন পরবর্তী টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে, যদিও এই মুহূর্তে কোনো নতুন ম্যাচের সূচি প্রকাশিত হয়নি।
সারসংক্ষেপে, ভৈভব সুর্যবংশীর ১৭৫ রান এবং ৩০টি ছয় দিয়ে তিনি অন্ডার‑১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন, এবং ভারত এ’কে শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।



